1. admin@ichchashakti.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন

যত্র-তত্র আন্দোলন:বর্তমান প্রেক্ষাপট-২০২৫,প্রভাব,করণীয়

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১১০ বার প্রতিবেদনটি দেখা হয়েছে

‎মো. রিমেল, শিক্ষার্থী,কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় 

‎আন্দোলন মানে হলো কোনো একটি উদ্দেশ্য আদায়ের জন্য সম্মিলিত চেষ্টা বা সমবেত হওয়ার প্রয়াস।অর্থাৎ বলা যেতে পারে কোনো একটি অধিকার আদায়ের জন্য সবার একত্রিত হওয়া।

‎আন্দোলন অতীতকাল থেকে বাংলাদেশের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।বাংলাদেশ জন্ম হওয়ার শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত নানা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে।১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন,১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৭১ সালে অসহযোগ আন্দোলন,১৯৯০ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন  কিছু উল্লেখযোগ্য আন্দোলনের উদাহরণ। বাঙালি জাতির জন্য আন্দোলন যেমন গৌরবের বিষয় তেমনি আন্দোলন জাতীয় জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ।বিশেষ করে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা বাংলা ভাষার মর্যাদা পেয়েছি এবং ২১ শে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কেবল বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বের জন্য মর্যাদার ও গৌরবের বিষয়।

‎কিন্তু অতীতের মতো বর্তমান ২০২৫ সালে এসে উল্টো বিষয় লক্ষণীয়।২০২৫ আন্দোলন জাতীয় জীবনের জন্য দুর্ভোগের অংশ হয়ে উঠেছে।২০২৫ সালের একটি উল্লেখযোগ্য আন্দোলন হলো বৈষম্য বিরোধী কোটা আন্দোলন যা পরবর্তীতে সরকার পতনের আন্দোলনে পরিনত হয়েছিল।এই আন্দোলন আমাদের জাতীয় জীবনে বদল আনলে ও ছিল ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক।ইতিবাচক দিক হলো ছাত্রদের যে উদ্দেশ্য তা সফল হয়েছে।নেতিবাচক দিক হলো সরকার পতন হলে ও পরবর্তী অবস্থার বিশৃঙ্খল অবস্থা নিয়ে জনসাধারণের হতাশা ও ছাত্রের উপরে ক্ষোভ।

‎বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন সফল হওয়া এবং সরকার পতন হওয়ার ফলে সাধারণ মানুষ ও বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি ধারণার জন্ম হয়েছে যে এখন যেকোনো আন্দোলন হলে ই বুঝি তা সফল হবে।অন্তবর্তিকালীন সরকার সব মেনে নিবে।ফলে যারা ইতিবাচকতায় বিশ্বাসী তারা আরো বেশি কিছু পাওয়ার আশায় আন্দোলন শুরু করছে আর যারা নেতিবাচকতায় বিশ্বাসীরা তারা সে আন্দোলন প্রতিহত আরেকটা আন্দোলন শুরু করছে।

‎ফলে সে ধারাবাহিকতায় আমরা দেখতে পাবো ২০২৫ এ আগস্টের শেষের দিক থেকে একটা আন্দোলন শেষ না হতে ই আরেকটা আন্দোলনের শুরু হচ্ছে।বিশেষ করে সাত কলেজ কে সেন্ট্রোল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা,শিক্ষকদের আন্দোলন,১০-২০ তম গ্রেডের কর্মচারীদের আন্দোলন,এমন কি শিক্ষার্থীরা ও বিভিন্ন বোর্ড পরীক্ষার ফলাফলে সন্তুষ্ট না হয়ে আন্দোলন কিংবা পরীক্ষা পিছানোর আন্দোলন।যেন রাজধানী এখন আন্দোলনের নগরীতে পরিনত হয়েছে।

‎এসব আন্দোলে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের লক্ষ্য অর্জিত হউক বা না হউক জনজীবনে নৈতিবাচক প্রভাব পড়ছে।যার ফলাফলে শিশুদের মস্তিষ্কে ও প্রভাব পড়ছে।পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে তারা ও সাধারণ বিষয়ে আন্দোলন করার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করছে।

‎জামালপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে গনিত পরীক্ষা কঠিন হওয়াতে তাদের ক্ষেত্রে ও আন্দোলনের মানসিকতা গড়ে উঠছে।

‎তাছাড়া ও আন্দোলনের ক্ষেত্রে রাস্তার পথচারী থেকে শুরু করে যানবাহনের  দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে সড়কে।ফলে কখনো কখনো সাধারণ পথচারীদের সাথে আন্দোলনকারীদের তর্ক-বিরোধ সহ কিছু ক্ষেত্রে হাহাহাতির ঘটনা ও ঘটছে।অনেক শ্রম ঘণ্টার অপচয় হচ্ছে আন্দোলনের কারণে।ফলে জাতীয় অর্থনীতির জন্য ও তা সুখকর নয়।

‎গুরুত্বপূর্ণ নয় এমন বিষয় কিংবা ছোট-খাটো বিষয় নিয়ে যেভাবে অহরহ  আন্দোলন তৈরি হচ্ছে তা মোটে ও সুখের বার্তা নয়।ভবিষ্যতে তা আরো খারাপের দিকে যেতে পারে।তাই এখনি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।তাই অপ্রাসঙ্গিক কিংবা কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আন্দোলনের বিষয়ে অতি দ্রুত আইন প্রনয়ণ করতে হবে।নতুন বিধিমালা তৈরি করতে হবে।যারা দেশকে সাধারণ বিষয় নিয়ে অস্থিতিশীল করে তুলছে সেক্ষেত্রে আইনের

‎প্রয়োগ ঘটাতে হবে।পরিশেষে একটা কথাই,আন্দোলন হউক যোক্তিক ও ন্যায়ের পক্ষে।দুর্ভোগ সৃষ্টি কিংবা অতি তুচ্ছ ব্যাপারকে কেন্দ্র করে নয়।

 

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ ইচ্ছাশক্তি
Theme Customized By Shakil IT Park