1. admin@ichchashakti.com : admin :
সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ন

সাতগাঁও চা বাগানে পুনর্বহাল ঘিরে প্রশ্ন: অতীতের অভিযোগে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তার প্রত্যাবর্তন

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৯৪ বার প্রতিবেদনটি দেখা হয়েছে

সাংবাদিক এসএম হুমায়ুন কবির:

 

সাতগাঁও চা বাগানে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে পুনরায় যোগদানকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে আশরাফুল সিদ্দিককে ঘিরে। আশরাফুল সিদ্দিক সাতগাও চা বাগানে গত দু টামে’ ১১ বছর চাকুরী করার সুবাধে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। উৎস হলো: বালু বিক্রি, গাছ বিক্রি, চা পাতা বিক্রি এবং সাধারন শ্রমিকদের তলবের টাকা  আত্মসাৎ করে। জানা যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি ও নারী কেলেঙ্কারির মতো গুরুতর অভিযোগে ২০২১ সালে তাঁর চাকরি চলে যায়।

 

তবে দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৪ সালে আবারও সাতগাঁও চা বাগানে যোগদানের জন্য তিনি তৎপর হয়ে ওঠেন। এ ক্ষেত্রে তিনি বাহুবল উপজেলার মধুপুর চা বাগানের ডিজিএম মোঃ মর্তুজা মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে নানাভাবে রাজি করাতে সক্ষম হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

পরবর্তীতে মর্তুজার সহায়তায় সাতগাঁও চা বাগানের তৎকালীন ম্যানেজার রফিকুল ইসলামের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়, যাতে তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছে সিদ্দিককে পুনর্বহালের জন্য সুপারিশ করেন। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে সিদ্দিক চাকরিচ্যুত হওয়ার সময়ও রফিকুল ইসলামই ওই বাগানের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

 

সূত্র জানায়, একপর্যায়ে রফিকুল ইসলাম বাধ্য হয়ে এমডির সঙ্গে কথা বলেন। বিভিন্ন সুত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, সে কঠিনভাবে প্রতিজ্ঞা করেছে বা কথা দিয়েছে যে সে আর কোন অপকর্ম করবে না। ভবিষ্যতে আর কোনো অনিয়ম বা অপকর্মে জড়াবেন না। একই ধরনের অঙ্গীকার তিনি মধুপুর চা বাগানের এমডি, ডিজিএম এবং সাতগাঁও বাগান কর্তৃপক্ষের কাছেও করেন বলে সুত্র জানায়।

 

সাতগাঁও চা বাগানের মালিকানা ও ইতিহাস

সাতগাঁও চা বাগানের ইতিহাসও বেশ পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী। ১৯৭৪ সালে মোঃ আহমদুল কবির ব্রিটিশ মালিকানাধীন ডানকান কোম্পানির কাছ থেকে বাগানটি ক্রয় করেন।

 

ব্যক্তিগত জীবনে আহমদুল কবিরের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তাঁর স্ত্রী লায়লা রহমান কবির বর্তমানে জীবিত আছেন। সন্তানদের মধ্যে বড় ছেলে মোঃ আলতামাস কবির (মিশু কবির), ছোট ছেলে জনাব আরদাশির কবির (টিটু কবির) এবং কনিষ্ঠ সন্তান ব্যারিস্টার নিহাদ কবির।

 

আহমদুল কবিরের মৃত্যুর পর মূলত দ্বিতীয় সন্তান আরদাশির কবিরের মালিকানায় সাতগাঁও চা বাগান পরিচালিত হচ্ছে, যদিও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও আংশিক মালিকানা পেয়েছেন।

 

অন্যদিকে, লায়লা রহমান কবির ভারতের জলপাইগুড়ির একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। জানা যায়, তাঁর পিতা সে সময় জলপাইগুড়িতে প্রায় ৪৫টি চা বাগানের মালিক ছিলেন।

 

বিয়ের পর শ্বশুরের পক্ষ থেকে লায়লা রহমান কবিরের নামে বাহুবলের মধুপুর এলাকায় জমি ক্রয় করে চা বাগান প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে এই পরিবারের মালিকানায় বাহুবলের দিনারপুর চা বাগান এবং সর্বশেষ মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ঝিমাই চা বাগান যুক্ত হয়।

 

বর্তমানে এই তিনটি বাগান কেদারপুর টি কোম্পানি লিমিটেডের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আলতামাস কবির এবং চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন ব্যারিস্টার নিহাদ কবির, যিনি তাঁর মায়ের বার্ধক্যজনিত কারণে এই দায়িত্ব পালন করছেন।

 

সাতগাঁও চা বাগানে দুর্নীতির বিস্তার: একের পর এক অভিযোগে তোলপাড়

মরহুম আহমদুল কবির জীবদ্দশায়ই তাঁর সমস্ত সম্পত্তি স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে বণ্টন করে দিয়ে যান। তবে সাতগাঁও চা বাগানটি আলাদাভাবে তাঁর সন্তান মোঃ আরদাশির কবিরের দায়িত্বে থাকে। এরপর শুরু হয় এক ভিন্ন বাস্তবতা।

 

বহু অনুরোধ ও তদবিরের পর চাকুরীচ্যুত কর্মকর্তা আশরাফুল সিদ্দিককে সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি সাতগাঁও চা বাগানে যোগদান করেন। যোগদানের পরপরই ম্যানেজার রফিকুল ইসলামের দেওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তিনি লেবার পেমেন্ট চুরির অভিযোগে দুইজন বাবুকে হাতেনাতে ধরেন এবং সেই কৃতিত্ব নিজে নিয়ে হেড অফিস ও এমডিকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে ঐ দুই কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। কিন্তু এরপরই শুরু হয় বিতর্কিত কর্মকাণ্ড।

 

একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে ডিজিএম ও এমডিদের প্রভাবিত করে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। একইভাবে আরও একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার এবং একজন কম্পিউটার অপারেটরকেও চাকরিচ্যুত করা হয়। বিস্ময়কর বিষয় হলো—এই অভিযোগগুলোর কোনো তদন্তই করা হয়নি। এমনকি ম্যানেজার রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়, তাদের মধ্যে শুধুমাত্র দুইজন বাবুর বিরুদ্ধে প্রমাণিত অভিযোগ ছিল। বাকি সবাই ছিলেন নির্দোষ, সৎ এবং ম্যানেজারের বিশ্বস্ত কর্মী। তাদের অধিকাংশই সিলেট বিভাগের, বিশেষ করে হবিগঞ্জ জেলার বাসিন্দা—যাদের প্রতি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিদ্বেষমূলক মনোভাব ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

অভিযোগের বিস্ফোরণ: কোটি টাকার আত্মসাৎ

চাকরিচ্যুত দুই কর্মচারী বিদায় নেওয়ার আগে গুরুতর অভিযোগ করেন যে, ২০২০-২০২১ সময়ে আশরাফুল সিদ্দিক নিজেই লেবার পেমেন্ট থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। পরবর্তীতে প্রমাণ হিসেবে ১০৪ সপ্তাহের রেজিস্টার ও পেমেন্ট শিট ম্যানেজারের কাছে জমা দেওয়া হয়।

 

তদন্তে দেখা যায়, শুধুমাত্র ইছামতি ডিভিশন থেকেই প্রায় ৮৬ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অথচ সাতগাঁও চা বাগানে রয়েছে আরও দুটি বড় ডিভিশন—মাকড়িছড়া ও সাতগাঁও। ধারণা করা হচ্ছে, এই দুটি ডিভিশন থেকে আরও প্রায় ২ কোটি টাকার মতো আত্মসাৎ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, লেবার পেমেন্ট সফটওয়্যারের প্রকৃত হিসাব ফটোশপের মাধ্যমে পরিবর্তন করে প্রতি সপ্তাহে অতিরিক্ত ২০-৩০ হাজার টাকা যোগ করে সেই অর্থ আত্মসাৎ করা হতো।

 

অতিরিক্ত অনিয়ম ও সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগ রয়েছে—

সার ও কেমিক্যাল ক্রয়ে দুর্নীতি: কোম্পানির খরচে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে ব্যক্তিগত আয়। গোপনে গাছ বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ:

হোন্ডা ক্রয়ে অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ,

এছাড়া শ্রীমঙ্গলে “চা লাক্সারি হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট” এবং একটি করোলা গাড়ির মালিকানার বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ম্যানেজার রফিকুল ইসলামের অপসারণ

দীর্ঘ ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী ম্যানেজার মোঃ রফিকুল ইসলাম, যিনি মালিকপক্ষের আস্থাভাজন ছিলেন, তাকেও অবশেষে মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে অবসরে পাঠানো হয়।

 

অভিযোগ রয়েছে, ডিজিএম মর্তুজা সাহেবের প্রভাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার তদবিরে এমডিকে ভুল বুঝিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অথচ অবসরের পর কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও তার পাওনা—পিএফ, গ্র্যাচুইটি—কিছুই পরিশোধ করা হয়নি।

 

নিয়োগে অনিয়ম ও আঞ্চলিক বৈষম্যঃ

বর্তমানে নিজের পছন্দের লোকদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যেখানে সিলেট বিভাগের প্রার্থীদের অবহেলা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের অধিকাংশই চট্টগ্রাম, পাবনা, ফরিদপুরসহ অন্যান্য জেলার।

জাল সনদ ও ব্যক্তিগত আচরণ নিয়েও প্রশ্নঃ

অভিযোগ রয়েছে—

শিক্ষাগত সনদে জালিয়াতি

মদ্যপান ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্ষমতার অপব্যবহার

প্রশাসনের দ্বারস্থ অভিযোগকারীরা

ইতোমধ্যে এসব অভিযোগ লিখিতভাবে জমা দেওয়া হয়েছে—জেলা প্রশাসক, মৌলভীবাজার,

ইউএনও, শ্রীমঙ্গল, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), হবিগঞ্জ। কৃষি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বরাবরে, এছাড়া লোন অনুমোদনের পূর্বে বাগানের হিসাব যাচাইয়ের দাবিও জানানো হয়েছে। সাতগাঁও চা বাগানে বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়—বরং একটি বৃহৎ দুর্নীতির চিত্র। যথাযথ তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এই সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

সাতগাঁও চা বাগানকে ঘিরে নানা বিতর্কের পেছনে উঠে আসছে প্রভাবশালী এক ডিজিএম মর্তুজার নাম। জানা যায়, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের বাসিন্দা এই মর্তুজা দীর্ঘদিন ধরেই সাবেক ম্যানেজার রফিকুল ইসলামের বিরোধী অবস্থানে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর প্রত্যক্ষ তদবির ও প্রভাব খাটিয়েই আশরাফুল সিদ্দিককে সাতগাঁও চা বাগানের ম্যানেজার পদে বসানো হয়। এ ক্ষেত্রে আরদাশির কবির এবং তার ভাই আলতামাস কবিরকে ম্যানেজ করার কথাও বিভিন্ন মহলে আলোচিত।

 

এর বিনিময়ে আশরাফুল সিদ্দিক নিয়মিতভাবে মর্তুজাকে বড় অংকের আর্থিক সুবিধা দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, মর্তুজার ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়েও রয়েছে গুরুতর প্রশ্ন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে চাকরিচ্যুত হওয়ার আগ থেকেই আশরাফুল সিদ্দিকের সঙ্গে মর্তুজার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এমনকি অভিযোগ রয়েছে, মর্তুজার ব্যক্তিগত বাংলোতে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তার জন্য আশরাফুল সিদ্দিক প্রিন্স নারীদের সরবরাহ করতেন।

 

সাতগাঁও চা বাগানে উৎপাদন গরমিলঃ তথ্য গোপন করে সরকারের ট্যাক্স ফাঁকির অভিযোগ!

২০২৪ সালে সাতগাঁও চা বাগানে চা উৎপাদনের পরিমাণ ছিল প্রায় ১.৩ মিলিয়ন কেজি (১৩ লক্ষ কেজি)। এই তথ্য উঠে এসেছে লেখক জিয়াউল হকের রচিত বাংলাদেশের চা বাগান বইয়ের ৫২ নম্বর পৃষ্ঠা থেকে। বইটি দেশের সকল চা বাগানের নির্ভরযোগ্য তথ্যসম্বলিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ, যা বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) কর্তৃক অনুমোদিত।

 

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই বই প্রকাশের আগে তথ্য সংগ্রহে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন সাতগাঁও চা বাগানের বর্তমান ম্যানেজার আশরাফুল সিদ্দিক নিজেই। ফলে বইয়ে প্রকাশিত তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সুযোগ খুবই কম।

 

অন্যদিকে, চা বাগানগুলোতে বার্ষিক ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক-এর কর্মকর্তারা উৎপাদন সক্ষমতা, পূর্ববর্তী রেকর্ড এবং অন্যান্য শর্ত কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করে থাকেন।

কিন্তু অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে—সাতগাঁও চা বাগান কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের উৎপাদনের হিসাব শ্রীমঙ্গল কৃষি ব্যাংকের কাছে ১০ লক্ষ কেজির অনেক নিচে দেখিয়েছে। অর্থাৎ, প্রকৃত উৎপাদনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কম দেখিয়ে তারা জাল তথ্য প্রদান করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

এতে ধারণা করা হচ্ছে, অবশিষ্ট উৎপাদিত কালো চা গোপনে বিক্রি করা হয়েছে—যেখানে সরকারকে প্রাপ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করে ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কৌশলে সম্পন্ন করেছেন ম্যানেজার আশরাফুল সিদ্দিক এবং বাগান মালিক সংশ্লিষ্ট মহল। এমনকি মূল রেজিস্টারেও প্রকৃত উৎপাদনের তথ্য গোপন রাখা হয়েছে বলে জানা যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—একদিকে অনুমোদিত বইয়ে সঠিক উৎপাদনের তথ্য প্রকাশিত, অন্যদিকে ব্যাংকে দেওয়া হয়েছে ভিন্ন হিসাব। এই দ্বৈততা স্পষ্টভাবে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয়।

 

২০২১ সালে নানা ধরনের দুর্নীতির অভিযোগে আশরাফুল সিদ্দিককে চাকরিচ্যুত করার পর সাতগাঁও চা বাগান কর্তৃপক্ষ দেশের সকল চা বাগান মালিকদের কাছে লিখিতভাবে অনুরোধ জানিয়েছিল—তাকে যেন কোথাও চাকরি না দেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত ছিল একটি কঠোর বার্তা, যা তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের গুরুত্বকেই নির্দেশ করে।

 

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, মাত্র তিন বছর পর কী এমন পরিবর্তন ঘটলো যে একই ব্যক্তি আবারও পুনঃনিয়োগ পেলেন? কোন স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নিল বাগান কর্তৃপক্ষ? এটি কি শুধুই প্রশাসনিক দুর্বলতা, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো যোগসাজশ?

 

আরও বড় প্রশ্ন—এই পুনঃনিয়োগের মাধ্যমে কি এমন কাউকে সামনে আনা হলো, যিনি উৎপাদিত চায়ের হিসাব-নিকাশে গড়মিল তৈরি করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকির মতো গুরুতর অনিয়মে জড়িত হতে পারেন? কারণ, দীর্ঘদিন সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা ম্যানেজার রফিকুল ইসলামের ক্ষেত্রে এমন অভিযোগ কখনোই শোনা যায়নি।

 

এখন সময় এসেছে এই পুনঃনিয়োগের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং পুরো বিষয়টি স্বচ্ছ তদন্তের আওতায় আনা জরুরি—না হলে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর অজানাই থেকে যাবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ ইচ্ছাশক্তি
Theme Customized By Shakil IT Park