
মো: ফাত্তাহান আলী
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।
তিস্তা নদীকেন্দ্রিক মানুষের জীবনসংগ্রাম, নদীভাঙনের বাস্তবতা এবং উত্তরাঞ্চলের সাহিত্যচর্চাকে সামনে রেখে ভিন্নধর্মী সাহিত্য আয়োজন করেছে ফিরেদেখা সাহিত্য সংগঠন। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় শোভাযাত্রা, ফিতা কেটে উদ্বোধন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা পর্ব। “বাংলাদেশে ছোটকাগজ চর্চা ও উত্তরাঞ্চলের অবদান” শীর্ষক আলোচনায় উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন কবি ও প্রাবন্ধিক এবং অতিরিক্ত ডিআইজি, কমান্ড্যান্ট, আরআরএফ রংপুরের আব্দুর রাজ্জাক। প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ড. মাসুদুল হক—কবি, কথাসাহিত্যিক, অনুবাদক ও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য।
আলোচনায় অংশ নেন কবি ও প্রাবন্ধিক সৈকত হাবিব। স্বাগত বক্তব্য দেন কবি ও আহ্বায়ক কাইয়ুম খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি, সম্পাদক ও প্রকাশক এবং ফিরেদেখা সাহিত্য সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাকিল আহমেদ। এ সময় অতিথিরা ছোটকাগজ ‘কাঁচাকঞ্চি’ এবং ‘ভাঙলো দাদুর ঠ্যাঙ’—এই দুটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন।
সকাল ১১টায় শুরু হয় কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠের প্রথম পর্ব। এতে ইব্রাহীম আজাদ, রাজ্জাক দুলাল, আহমেদ মওদুদ, মাসুম মোরশেদ, ফরহাদুজ্জামান ফারুক, মোস্তাক আহমেদ, হাসান রোকন, আল আমিন ইসলাম, নীল রতন সরকার, বায়জিদ বোস্তামি, সেবু মোস্তাফিজ, জিয়াউল আলম ফারুকী, সাকিবুল সাকিল, আজমাইন ফালাক, ইরশাদ জামি, হাবিবুল্লাহ বিশ্বাস, আব্দুল লতিফ মৃধা, নিশিকান্ত রায়, শাহীন স্বপন, নাহিদা ইয়াসমিন, নাজমুল হক বাদল, জেসমিন নাহার, আজিজুর রহমান, আলমগীর হোসেন, নাজিরা জাহান, সাদিকুল, আব্দুল লতিফ প্রামানিক, তনু আক্তার, শফিকুল ইসলাম আবির, ইসমত আরা, খন্দকার মোহাম্মদ আলী সম্রাট, এমাদউদ্দীন আহমেদ, সাফা সুলতানা, রোকসানা সিদ্দীক, শরৎ আহমেদ রম্য, জিনাত হোসেন সুমি, ইউনুছ আলী আনন্দ, আব্দুল মান্নান আকন্দ, আজিজুল হাকীম মন্ডল, আবু আনাস, হাফিজ রেদওয়ান ও শরীফ উর রহমান কবিতা পাঠ করেন। এছাড়াও কবিতা পাঠে অংশ নেন কবি মো. ফাত্তাহান আলীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার শতাধিক কবি।
দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত হয় “তিস্তাপারের মানুষ ও জীবন” শীর্ষক আলোচনা সভা। এতে প্রধান আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট কবি, কথাসাহিত্যিক ও গবেষক রানা মাসুদ। আলোচনায় অংশ নেন গবেষক ও সাংবাদিক ড. অখিল পোদ্দার এবং ফিরেদেখার সাহিত্য সম্পাদক ও সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের সহকারী অধ্যাপক বাবুল সরকার। সভাপতিত্ব করেন তাপস মাহমুদ।
আলোচনার শেষ পর্বে কবি আল আমিন ইসলামসহ আরও কয়েকজনকে সাংগঠনিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। বিকেলে শুরু হয় কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠের দ্বিতীয় পর্ব। এ পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন নীল রতন সরকার ও খন্দকার মোহাম্মদ আলী সম্রাট। পাশাপাশি দ্বিতীয় পর্বেও কবিরা কবিতা পাঠ করেন।
ফিরেদেখা সাহিত্য সংগঠনের আয়োজক ও সাধারণ সম্পাদক সাকিল আহমেদ জানান, “তিস্তার মানুষের জীবন সংগ্রামকে সাহিত্যে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলতেই আজকের এই আয়োজন।” আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ উত্তরাঞ্চলের নদীকেন্দ্রীক সাহিত্যচর্চা ও ছোটকাগজ আন্দোলনকে আরও সমৃদ্ধ করবে।