1. admin@ichchashakti.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন

অবহেলা, কোটা আন্দোলন ও দেশের অচল অবস্থা 

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৯১ বার প্রতিবেদনটি দেখা হয়েছে

সাবিত রিজওয়ান 

 

১৯৭১: স্বাধীনতার আন্দোলন

১৯৭১ সালে বাংলার মানুষ স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিল। আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকরা “অধিকার চাই, স্বাধীনতা চাই” স্লোগানে জনগণকে উষ্কানিত করেন। পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব বাংলার মানুষদের ওপর নিপীড়ন ও শোষণ চালায়। বাংলার অসংখ্য বীর সন্তান জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতার জন্য লড়েছেন। আমাদের অনেকের নাম অজানা। আমরা কি যথাযথভাবে তাদের সাহস ও ত্যাগকে শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছি?

 

মুক্তিযুদ্ধে ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ভুটানসহ বিভিন্ন দেশ সহায়তা দেয়। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। আমরা তাদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি।

 

তবে স্বাধীনতার পর ভারতের কিছু আচরণ প্রশ্ন সৃষ্টি করে। যুদ্ধের পরে দেশের কিছু সম্পদ লুটপাটের অভিযোগ আছে, যা ইতিহাসে স্পষ্টভাবে আলোচিত হয়নি। নদী ও পানি বণ্টনে ভারত প্রায়ই প্রতারণা করেছে, যখন দেশের পানি প্রয়োজন, তখন নদী কম পানি দিয়ে অঞ্চলে দুর্যোগ সৃষ্টি করেছে।

 

আওয়ামী লীগের আমল: স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের সীমাবদ্ধতা

  • আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার সীমিত হয়ে যায়।
  • বাকস্বাধীনতা ও রাজনৈতিক হয়রানি: সমালোচককে মামলা, গ্রেফতার বা গুম।
  • ধর্মীয় স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা: দাড়ি, টুপি বা ইসলামি চর্চার কারণে ‘জঙ্গি’ বা ‘রাজাকার’ আখ্যা।
  • গুম-খুন ও প্রশাসনিক নির্যাতন: বিরোধী ছাত্র, নেতা ও কর্মীদের লক্ষ্য।
  • দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক লুটপাট: সরকারি তহবিল ও প্রকল্পে অনিয়ম।
  • ভুক্তভোগী জেলা ও অঞ্চলের অবহেলা: বিশেষ করে রংপুর।
  • ভারতের প্রতি নতজানু নীতি: সীমান্ত, নদী ও পানি নিয়ে আপস।
  • ফলে দেশের স্বাভাবিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং সামাজিক বৈষম্য দীর্ঘায়িত হয়।

 

২০২৪ কোটা আন্দোলন: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা

  • “কোটা পৃথক কবর দে, বৈষম্যহীন বাংলা চাই” স্লোগানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ আন্দোলনে নামে। প্রথম শহীদ ছিলেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাইদ।
  • ৫ আগস্ট, আ.লীগের পতনের মধ্য দিয়ে আন্দোলন শেষ হয়। এরপর গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
  • প্রথমে মনে হয়েছিল—দেশে ন্যায়বিচার, মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও বৈষম্যহীন প্রশাসন প্রতিষ্ঠা হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল—

 

সমন্বয়কদের অপকর্ম

  • তহবিল ও সাহায্যসামগ্রীর অপব্যবহার।
  • চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও ক্ষমতার অপব্যবহার।
  • রাজনৈতিক স্বার্থে আন্দোলনের খাতিরে নৈতিকতা উপেক্ষা।
  • আইনশৃঙ্খলার অবনতি, চুরি, হামলা ও সামাজিক নিরাপত্তার হ্রাস।
  • এনজিও মার্কা প্রকল্পের মতো আচরণ, যা সরকার ও জনগণের স্বার্থের বিপরীতে।

 

আ.লীগের অব্যাহত প্রভাব

  • কোটা দূর করতে ব্যর্থতা, শহিদদের নামে নতুন কোটা চালুর পরিকল্পনা।
  • উন্নয়ন বৈষম্য, রংপুরসহ অনেক জেলা এখনও অবহেলিত।
  • ঢাকার কেন্দ্রিকতা, যেখানে ঢাকাই দেশের উন্নয়নের কেন্দ্র।
  • ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রশাসনিক দুর্নীতি অব্যাহত।
  • অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও রংপুরের অবহেলা স্পষ্ট।

 

গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের চিত্র

  • ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়—
  • ধর্ষণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও খুনের ঘটনা বৃদ্ধি।
  • রাঙ্গামাটি ও সিলেটের পাথর চুরি, স্থানীয় চাঁদাবাজি।
  • সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ।
  • আ.লীগ ও তাদের দোসর দলের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধের দাবি।
  • যদিও জনগণ সচেতন হয়েছে, কিন্তু যে জনগণের মাঝে ঐক্য নেই, সেই জনগণের মতামত কতটা কার্যকর হতে পারে তা প্রশ্নবিদ্ধ।

 

 

উপসংহার: ঐক্যই জাতির শক্তি

একটি জাতি যদি ঐক্যহীন থাকে, বিভক্ত থাকে এবং শোষণ-বৈষম্যে জর্জরিত থাকে—তাহলে তার উন্নয়ন থেমে যাওয়া স্বাভাবিক। ইতিহাস প্রমাণ করে—ঐক্য ছাড়া কোনো জাতি দীর্ঘস্থায়ী অগ্রগতি অর্জন করতে পারে না।

যে জনগণের মাঝে ঐক্য নেই, সেই জনগণের দ্বারা দেশ অচল হয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ ইচ্ছাশক্তি
Theme Customized By Shakil IT Park