1. admin@ichchashakti.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন

ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা; নবীন লেখক মীর ফয়সাল নোমানকে নিয়ে অপপ্রচার ও সত্য বিকৃতির অভিযোগ

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৫৮ বার প্রতিবেদনটি দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ 

 

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নবীন লেখক কবি মীর ফয়সাল নোমান’কে নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর প্রচারণার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সাহিত্যমহল ও নোমানের পাঠকসমাজের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ফেসবুকের একজন লেখিকা “নুসরাত জাহান” জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত মীর ফয়সাল নোমানের লেখাগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃত করে উপস্থাপন করছেন এবং সেগুলোকে বিকৃত আকারে ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন।

নুসরাত জাহান তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন- লেখক যখন গাঁজা সেবন করে কবিতা লেখে তখন কবিতায় ছন্দ মাত্রা কিছুই ঠিক থাকে না। আপনারা দেখে বলেন এই গুলো কোন ছন্দের কবিতা.? পত্রিকার সম্পাদক নিশ্চিত লেখকের মত গাঁজাখোর; একজন কবিতা প্রেমী হিসেবে এমন বাজে লেখা আগে কখনো পড়ি নাই। 

 

জানা যায়, মীর ফয়সাল নোমান তার সাহিত্যচর্চার অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে জাতীয় পত্রিকায় কবিতা, প্রবন্ধ ও গল্প প্রকাশ করে আসছেন। একজন নতুন প্রজন্মের লেখক হিসেবে তিনি ইতিমধ্যে পাঠকের কাছে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করতে শুরু করেছেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, “নুসরাত জাহান” সমন্বিতভাবে নোমানের লেখাকে বিকৃত অর্থে উপস্থাপন করে ফেসবুকে প্রচার করছেন। শুধু তাই নয়, তিনি লেখককে “গাঁজা খোর”, “নেশাখোর” ইত্যাদি অবমাননাকর এবং অসম্মানজনক শব্দ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত আক্রমণ চালাচ্ছেন।

 

এই ধরনের অপপ্রচার, মিথ্যাচার এবং ব্যক্তিগত মানহানির বিষয়গুলো শুধু একজন লেখকের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে না, বরং তার মননশীল সৃষ্টিশীলতাকেও আঘাত হানে। সাহিত্য একটি সম্মানের জায়গা- এখানে সৃজনশীলতাকে সমালোচনা করা যায়, মতবিরোধও থাকতে পারে, কিন্তু কারও প্রকাশিত রচনাকে বিকৃত করে ব্যক্তিগত আক্রমণ চালানো এক ধরনের নৈতিক অপরাধ বলেই মনে করছেন বহু সাহিত্যপ্রেমী।

 

অনেক পাঠক মন্তব্য করছেন, ইচ্ছাকৃত এই প্রচারণার উদ্দেশ্য হলো লেখকের প্রতি বিদ্বেষ ছড়িয়ে তাকে সাহিত্যাঙ্গন থেকে নিরুৎসাহিত করা। একজন নবীন লেখক যখন জাতীয় পত্রিকায় লেখার সুযোগ পান, তখন তা তার সাহিত্যচর্চার অগ্রযাত্রার স্বীকৃতি। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়িয়ে তাকে ‘সাহিত্য থেকে ছিটকে দেওয়ার’ মতো প্রচেষ্টা একটি উদ্বেগজনক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও সেই স্বাধীনতা কখনোই কারও সম্মানহানি, মিথ্যাচার বা অপপ্রচারের অধিকার দেয় না- এটি বিশেষজ্ঞদের মত। এমন পরিস্থিতি একদিকে একজন লেখকের মানসিক ক্ষতি করে, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের সাহিত্যচর্চায় ভীতি ও অনুৎসাহ তৈরি করে।

 

এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, কারও সাহিত্যকর্ম সমালোচনা করতে হলে যুক্তি-তথ্যের ভিত্তিতে তা করা উচিত। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে, জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত লেখা বিকৃত করে এবং লেখকের ব্যক্তিগত চরিত্রে কটূক্তি ছুড়ে দিয়ে প্রচারণা চালানো একটি অগ্রহণযোগ্য আচরণ। প্রয়োজন হলে এ ধরনের মানহানিকর কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।

 

সাহিত্য সমাজের বোধ, মনন ও নৈতিকতাকে সমৃদ্ধ করে। সেখানে অপপ্রচার, বিকৃত তথ্য ছড়ানো এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ শুধু সাহিত্যজগত নয়, সমাজের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। নবীন লেখকদের অনুৎসাহিত করার এই ধরনের আচরণ অবশ্যই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ ইচ্ছাশক্তি
Theme Customized By Shakil IT Park