
ফিরোজ শাহীন আলাল
শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড ও মানদণ্ড। আধুনিক যুগোপযোগী, লাগসই টেকসই, বাস্তবধর্মী, প্রযুক্তি নির্ভর, কারিগরি জ্ঞান সম্পন্ন শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করা আমাদের দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরী। আমাদের দেশের প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন কারিগরি শিক্ষা বাস্তবতায়ন অত্যাবশ্যকীয়। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার শেষ ধাপ পর্যন্ত শিক্ষার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা খুবই জরুরি। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই যে ছাত্র যে বিষয়ের উপর আগ্রহী— তাকে সে বিষয়ের উপরে শিক্ষা দিয়ে দক্ষতা অর্জন প্রয়োজন। অর্থাৎ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার চিন্তা চেতনার আগ্রহ —শ্রেণী বিন্যাস করে দক্ষ করে গড়ে তোলাই সুশিক্ষার মন্ত্র হওয়া উচিত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য— আমাদের দেশে শিক্ষা ব্যবস্থার শৃঙ্খলা ও ধারাবাহিকতা সমন্বয় একেবারেই নেই।
যখন তখন ইচ্ছা মাফিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন পরিবর্তন পরিবর্ধন করা হচ্ছে। এটা মোটেও ঠিক নয়। শিক্ষানীতি প্রণয়ন পরিবর্তন পরিবর্ধন করার আগে অবশ্যই প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ধারাবাহিকতা রক্ষা করে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত গবেষণা করে, লাগসই ও টেকসই এবং প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন বর্তমান বাস্তবতার নিরিখে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে যাই করা হোক না কেন প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চ শিক্ষার পর্যায় পর্যন্ত সমন্বয় করে ট্রেনিং দিয়ে দক্ষতা অর্জন করা অত্যাবশ্যক— এবং সেই সাথে অভিভাবকদেরও শিক্ষা ব্যবস্থার উপর সমূহ জ্ঞান অর্জন প্রয়োজন। শুধু তাই নয় এর সঙ্গে সম্পর্কিত সকল ষ্টেক হোল্ডারদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন প্রয়োজন।
সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং এর ভালো ও মন্দ দিক গুলো যাচাই বাছাই করে আমাদের বাস্তবতায় সঠিক কিনা উপযুক্ত গবেষণা করে শিক্ষা বিভাগের প্রাথমিক পর্যায় থেকে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত সমন্বয় করে ট্রেনিং দিয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করে তার পর সঠিক শিক্ষানিতী নির্ধারন করা প্রয়োজন।এবং তা অবশ্যই ধাপে ধাপে সুচারুভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
আমার জীবদ্দশায় আমি আমাদের দেশের অনেক বার শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে দেখেছি ।এটা মোটেও সঠিক শিক্ষার জন্য মোটেও কাম্য নয়। প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত সমন্বয় করে শিক্ষানীতি প্রণয়ন না করলে এবং দেশের বাস্তবতার সাথে শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন না হলে —তা কখনো বাস্তবতার সাথে সঠিক শিক্ষা অর্জনের সহায়ক ভূমিকা হতে পারে না। এবং দেশের বাস্তবতার নিরিখে সে শিক্ষা কোন কল্যাণ বয়ে আনবে না।
একটা দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন হলেও কিছু মৌলিক নীতি পরিবর্তন করা ঠিক নয়। যেমন- পররাষ্ট্রনীতি, শিক্ষানীতি, পরিকল্পনা, অপরিবর্তিত থাকা বাঞ্ছনীয়। কোন জাতিকে ধ্বংস করতে তার শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করলেই সবকিছু ধ্বংস করা সম্ভব।
দ্রুত উন্নয়নের জন্য কারিগরী শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অর্জন করা সম্ভব।আত্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে ব্যক্তির উন্নয়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রের উন্নয়ন অগ্রগতি সম্ভব। তাই দেশের দ্রুত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করতে হলে কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে আত্ন কর্ম সংস্থান অতীব জরুরি।সবার যোগ্যতা অনুযায়ী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হলে— সকল সেক্টরে উন্নয়ন অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব। কৃষি, চিকিৎসা, শিক্ষা, শিল্প কারখানা, ইলেকট্রনিক, ইলেকট্রিক সকল প্রযুক্তি জ্ঞান থাকলে দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি সমৃদ্ধি অর্জন করতে হলে কারিগরি শিক্ষার ও স্বশিক্ষা সুশিক্ষার বিকল্প নাই।