
বর্ষার বিদায় বেলা শেষ হতেই আকাশ যেন সাদা মেঘের পাল তুলে নাচতে শুরু করল। হালকা হাওয়ায় ভেসে এলো শরৎ। মাঠের ধারে কাশফুল মাথা দোলাচ্ছে, আকাশে ভেসে যাচ্ছে তুলোর মতো সাদা মেঘ। এ যেন প্রকৃতির হাসি।
গ্রামের শিশুরা খুব খুশি। বিকেল হলেই তারা ছুটে যায় নদীর ধারে। কেউ ঘুড়ি ওড়ায়, কেউ কাশফুল কেটে গাঁথে মালা। রূপা নামের ছোট্ট মেয়েটি ফুল তুলে চুলে গুঁজে দেয়, তার হাসিতে যেন শরতের আকাশ ভরে ওঠে। পাশেই হাসান বাঁশির সুর তোলে—“টুইট টুইট” পাখির মতো মিষ্টি আওয়াজ। সবাই মিলে হেসে খেলে শরতের বিকেলটাকে করে তোলে আনন্দময়।
পুকুরে শাপলা ফুটে আছে, শিশুরা নৌকা বানিয়ে ভাসায় জলে। নৌকায় চড়ে তারা গান ধরে—“শরৎ এলো, হাওয়া এলো, হাসির জোয়ার বয়ে গেলো।” গ্রামময় সেই গান ছড়িয়ে পড়ে, বড়রাও শুনে হাসে।
শরৎ শুধু প্রকৃতির নয়, শিশুদের হৃদয়েও হাসি এনে দেয়। মেঘের ফাঁক দিয়ে রোদ ঝরে, কাশফুলের সাদা দোলায় খুশি ছড়ায়, শিশুরা খেলার ফাঁকে মনে মনে ভাবে—এই পৃথিবী কত সুন্দর!
শরতের হাসি তাই আসলে শিশুদেরই হাসি। তাদের খেলা, গান, কাশফুলের মালা, আর মিষ্টি আনন্দে ভরা হৃদয়—সব মিলেই শরতের হাসি।