1. admin@ichchashakti.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন

বাবার পক্ষ থেকে ছেলের জীবন গঠনের বাস্তব ১০ শিক্ষা, যা সন্তানকে আলোকিত মানুষ গড়বে

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৬৪ বার প্রতিবেদনটি দেখা হয়েছে

এস এম জাকারিয়া, মীরসরাই, চট্টগ্রাম

 

পৃথিবীর বুকে মানব জীবন গঠনে কিছু শিক্ষা রয়েছে এমন, যেগুলো একজন বাবাই একমাত্র শিক্ষক হিসাবে তাঁর কিশোর ছেলেকে শিক্ষা দিতে পারেন । এ শিক্ষা কেবল মুখ দিয়ে যথেষ্ট হয় না, বরং জীবনের নিরেট বাস্তবতা লব্দ্ধ অভিজ্ঞতা, নিরব সত্য, কঠিন ভালোবাসা ও সময়ের পরীক্ষিত জ্ঞানকে আবর্তন করেই সন্তানের মাঝে গড়ে ওঠে। একজন ছেলে যখন কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পদার্পণ করার মাধ্যমে পুরুষে পরিণত হয়, তখন তার বাবার কাছ থেকে পাওয়া এই শিক্ষাই তার জীবনের ভিত রচনা করে। নিচে তেমনি কয়েকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিয়ে আলোকপাত করা হলো……

 

১) নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন : একজন বাবা প্রথমে নিজে তার স্ত্রী বা সঙ্গিনীর প্রতি ব্যবহার দিয়ে সন্তানকে শেখান কীভাবে নারীদের সম্মান করতে হয়। তিনি নারীদের প্রতি সদয় ব্যবহার, সংবেদনশীল এবং সম্মানজনক আচরণ করার মাধ্যমে জানান দেন একজন প্রকৃত পুরুষের পরিচয়।

 

২) ব্যর্থতাকে মেনে নেওয়া ও শিক্ষা গ্রহণ : একজন বাবা তার সন্তানকে বোঝান যে, ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়, বরং এটি হচ্ছে নতুন করে সফলতার শিক্ষার পথ। তিনি শিক্ষা দেন কীভাবে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও সুসংহত এবং সুসংগঠিত হয়ে সফলতার পথে এগিয়ে যাওয়া যায়।

 

৩) নিজের কাজের প্রতি দায়িত্বশীল থাকা : ছোটখাটো ঘরের কাজ হোক বা জীবনের বড় সিদ্ধান্ত, বাবা শেখান যে প্রকৃত পুরুষ সবসময় নিজের কাজের দায়িত্ব নিজেই বহন কর, ভুল হলে ক্ষমা চায় এবং সংশোধনের চেষ্টা করে।

 

৪) শারীরিক শক্তিতেই সব হয় না : বাবা বোঝান যে প্রকৃত শক্তি শুধুই শরীরচর্চা বা মারামারিতে জেতার মধ্য দিয়ে নয়, বরং বিপদসংকুল মূহুর্তে মাথা ঠান্ডা রেখে ধৈর্য ধারণ, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনে অন্যকে রক্ষা করার মাধ্যমে।

 

৫) আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা : বাবা শেখান যে কাঁদা বা ভয় পাওয়া দুর্বলতা নয়, বরং আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে রাগ, দুঃখ বা ভয় প্রকাশ করার সামাঞ্জস্যতাই আসল শিক্ষা।

 

৬) কঠোর পরিশ্রমের মূল্য : একজন বাবা শিখিয়ে দেন, যেকোনো কাজেই যদি মনোযোগ দিয়ে পরিশ্রম করা হয়, তা জীবনে অবশ্যই সাফল্য এনে দেয়। নিজের কাজকে সম্মান করে দায়িত্ব প্রাপ্ত কাজ সময় মেনে শেষ করাই হলো তাঁর শিক্ষা।

 

৭) অর্জিত অর্থের মূল্য বোঝা : বাবা শেখান জীবনে যা উপার্জন করবে তা পুরোটা শুধু খরচ করার নয়, বরং এটি সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জীবনে স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব। জীবন চলার পথে অর্জিত অর্থের মূল্যায়ন করতে হবে সঞ্চয়, পরিকল্পিত খরচ এবং ঋণ থেকে সাবধান থাকার গুরুত্ব বোঝার মাধ্যমে।

 

৮) রসিকতার গুরুত্ব : ড্যাড জোকস হোক কিংবা হালকা রসিকতা যাই হোক, বাবা শেখান কারো অনুভূতিতে বা মূল্যবোধে আঘাত না করে কীভাবে রসিকতার মাধ্যমে মানুষকে কাছাকাছি আনা যায়, মানসিক চাপ কমানো যায়।

 

৯) অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া : বাবা শেখান, বড় হওয়া মানে কেবল নিজের সফলতা নয়, বরং অন্যকে বোঝা, তার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে সাহায্য করা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববান হওয়াই আসল সফলতা।

 

১০) নীরবে শেখানো শিক্ষা : সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাবার দেওয়া কিছু শিক্ষা এমন যেগুলো  নির্দেশনা দিয়ে নয়, বরং নিজে কাজ করে দেন। সন্তান বাবার কাজ দেখেই শিখে যায়, কীভাবে দাঁড়াতে হয়, কীভাবে চলতে হয়।

 

এই দশটি বিষয়ই একজন বাবার একান্ত নিজস্ব শিক্ষা, যা তার কিশোর ছেলেকে গড়ে তোলে একজন অনুভূতিপ্রবণ দায়িত্ববান ও শক্তিশালী পুরুষ হিসেবে। তাই আসুন আমরা যারা বাবা হয়েছি আমরা সন্তানকে নিজেদের শিক্ষায় শিক্ষিত করি, আর যারা সন্তান তারা বাবার শিক্ষাকে ওজন মনে না করে বরং তা আঁকড়ে ধরে নিজেকে গড়ি।

[ সহ সুপার, চিশতিয়া বজল আহমদ ইসলামিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদরাসা, জোরারগঞ্জ, মীরসরাই, চট্টগ্রাম। ]

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ ইচ্ছাশক্তি
Theme Customized By Shakil IT Park