
দেশের বইপ্রেমীদের জন্য সুখবর বয়ে নিয়ে এসেছে নতুন এক উদ্যোগ অনলাইন বুকশপ “হাদী বুকশপ”। সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই প্ল্যাটফর্মটি গড়ে তুলেছেন তিন তরুণ উদ্যোক্তা- জুবাইর আল হাদী, তারিকুল ইসলাম এবং নাঈম আহমেদ। তাদের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই পাঠক মহলে কৌতূহল ও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
বর্তমান যুগে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে অনলাইন কেনাকাটা দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সেই ধারাবাহিকতায় বই কেনার ক্ষেত্রেও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের চাহিদা বাড়ছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে “হাদী বুকশপ” চালু করার উদ্যোগ নেন এই তিন তরুণ। তাদের লক্ষ্য হলো- দেশের যেকোনো প্রান্তে বসে পাঠক যেন সহজেই নিজের পছন্দের বই হাতে পেতে পারেন।
প্রতিষ্ঠাতারা জানিয়েছেন, “হাদী বুকশপ”-এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পাঠকদের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত বই পৌঁছে দেওয়া। তারা দাবি করেছেন, এই প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রকাশনীর বই একত্রে পাওয়া যাবে। ফলে একজন পাঠককে আলাদা আলাদা জায়গায় খুঁজতে হবে না; একটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই প্রয়োজনীয় বই সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
বিশেষ করে ডিসকাউন্টের বিষয়টি তারা গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। উদ্যোক্তাদের ভাষ্যমতে, অন্য যেকোনো অনলাইন বা অফলাইন বুকশপের তুলনায় সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়ার চেষ্টা থাকবে তাদের। এতে করে শিক্ষার্থী, তরুণ পাঠক এবং সীমিত আয়ের মানুষও সহজে বই কিনতে উৎসাহিত হবেন বলে তারা আশা করছেন।
“হাদী বুকশপ” এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে ব্যবহারকারীরা সহজেই বই খুঁজে পেতে পারেন। ক্যাটাগরি অনুযায়ী বই সাজানো, বইয়ের তালিকা সব মিলিয়ে এটি একটি আধুনিক অনলাইন শপিং অভিজ্ঞতা দেবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। পাঠকরা ঘরে বসেই মোবাইল কিংবা পিসির মাধ্যমে অর্ডার করতে পারবেন তাদের পছন্দের বই।
ডেলিভারি ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে বই পৌঁছে দেওয়ার জন্য তারা নির্ভরযোগ্য কুরিয়ার সেবার সঙ্গে কাজ করছেন। ঢাকার মধ্যে স্বল্প সময়ে ডেলিভারি এবং দেশের অন্যান্য জেলাতেও দ্রুততম সময়ে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
এছাড়াও, গ্রাহকসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠাতারা। কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে দ্রুত সমাধান দেওয়ার জন্য একটি সক্রিয় সাপোর্ট টিম কাজ করবে। এতে করে ক্রেতাদের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে বলে তারা মনে করেন।
তিন উদ্যোক্তা বিশ্বাস করেন, “হাদী বুকশপ” শুধু একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ নয়, বরং এটি একটি সামাজিক আন্দোলনের অংশ হতে পারে। তারা মনে করেন, বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, সেটি পরিবর্তনে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তোলাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
তাদের ভাষায়, “আমরা চাই মানুষ আবার বইয়ের কাছে ফিরে আসুক। জ্ঞান, চিন্তা ও সৃজনশীলতার বিকাশে বইয়ের বিকল্প নেই। যদি আমরা সহজভাবে বই পৌঁছে দিতে পারি, তাহলে পাঠকসংখ্যা বাড়বে।”