1. admin@ichchashakti.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন

অনিশ্চয়তার মুখে সরকারি এটিআই শিক্ষার্থীরা: নীরব বোর্ড, দ্বিমুখী নীতি ও ভবিষ্যৎ সংকট

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৭১ বার প্রতিবেদনটি দেখা হয়েছে

একই বোর্ডের অধীনে থেকেও আজ কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীরা দুই ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি। একদিকে ১৮টি সরকারি এটিআই-এর শিক্ষার্থীরা ন্যায্য দাবিতে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা বর্জন করেছে, অন্যদিকে একই বোর্ডভুক্ত প্রায় ১৫২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এই বৈষম্য শুধু প্রশ্নবিদ্ধ নয়, এটি একটি কাঠামোগত অবিচারের স্পষ্ট প্রতিফলন।

 

সরকারি এটিআই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করেছে হঠাৎ কোনো খেয়ালবশত নয়; বরং দীর্ঘদিনের অবহেলা, দাবি-দাওয়া উপেক্ষা এবং পেশাগত অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে এটি একটি বাধ্যতামূলক প্রতিবাদ। অথচ দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—এত বড় একটি আন্দোলনের পরও বোর্ড থেকে ন্যূনতম কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নেই। এই নীরবতা শিক্ষার্থীদের হতাশা ও অনিশ্চয়তাকে আরও গভীর করছে।

 

সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো, সামনে আর মাত্র দুইটি পরীক্ষা বর্জন করলেই সরকারি এটিআই শিক্ষার্থীদের এক বছর লস হওয়ার আশঙ্কা। একটি পুরো বছর শুধু একাডেমিক ক্যালেন্ডার থেকে হারিয়ে যাবে না, বরং জীবনের পরিকল্পনা, চাকরির সুযোগ, মানসিক স্থিতি—সবকিছুই বিপর্যস্ত হবে। অথচ যাদের হাতে এই সংকট নিরসনের ক্ষমতা, তারা যেন ইচ্ছাকৃতভাবেই চোখ বন্ধ করে আছে।

 

বর্তমান সময়টি দেশের জন্যও অত্যন্ত সংবেদনশীল। সামনে জাতীয় নির্বাচন, সাম্প্রতিক সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি, পাশাপাশি একজন পরিচিত আন্দোলনকর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু—সব মিলিয়ে জাতি এক অস্থির সময় পার করছে। এই অস্থিরতার ভিড়ে কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের ৮ দফা ন্যায্য আন্দোলন চাপা পড়ে গেছে। কিন্তু কোনো আন্দোলন চাপা পড়লেই তার যৌক্তিকতা শেষ হয়ে যায় না, বরং অবহেলা আরও বড় সংকট তৈরি করে।

 

সবচেয়ে উদ্বেগজনক প্রশ্ন হলো—নির্বাচনের আগে যদি সরকারি এটিআই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা না দেয় এবং বোর্ড যদি কোনো সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে এই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কোথায় দাঁড়াবে? রাষ্ট্র কি এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়, যেখানে একটি প্রজন্ম শুধুমাত্র প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণে বিপর্যস্ত হবে?

 

এখন সময় অস্পষ্টতা ঝেড়ে ফেলে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার। বোর্ডকে অবিলম্বে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য সমান ও ন্যায়সংগত নীতি ঘোষণা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের দাবিকে আন্দোলনের চাপে নয়, যুক্তির আলোকে মূল্যায়ন করতে হবে। নইলে আজ যে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে, তা আগামী দিনে কৃষি খাতের জন্যই এক বড় সংকটে পরিণত হবে।

 

কারণ কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শুধু তাদের ব্যক্তিগত বিষয় নয়—এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি উন্নয়নের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

 

লেখক:

মোঃ রবিউল ইসলাম খান রবিন (রাশশাদ),

শিক্ষার্থী, ৬ষ্ঠ পর্ব, কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট – খাদিম নগর, সিলেট।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ ইচ্ছাশক্তি
Theme Customized By Shakil IT Park