1. admin@ichchashakti.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর ইতিহাস 

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৯৭ বার প্রতিবেদনটি দেখা হয়েছে

লেখক : জেড এইচ ফাহাদ 

 

বর্তমান সময়ে “বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী” পড়ে নাই এমন পাঠক নগ্ন, শিশু-কিশোর পাঠকের কথা না হয় বাদ দিলাম। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী বর্তমান সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় বিভাগ। কিশোর পাঠকরা তো বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর ভক্ত। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী বলতে কি বুঝায়? তা অনেকের প্রশ্ন। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী বলতে বিজ্ঞানের বিভিন্ন ধারণাকে কেন্দ্র করে লেখা কাল্পনিক গল্পকে বুঝায়। এটা অনেকের জানা। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীকে ইংরেজিতে “Science Fiction ( সায়েন্স ফিকশন)” বলে। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর যাত্রা শুরু হয়েছে কখন তা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই। তবে, ১৮১৮ সালে প্রকাশিত মেরি শেলি “ফ্রাঙ্কেনস্টাইন” বইটি দিয়ে এই বিভাগের সূচনা করেছিলেন বলে ব্যাপকভাবে মনে করা হয়। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী হল এক ধরনের অনুমানমূলক কল্পকাহিনী যা কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আসলে সত্য হলে জীবন যেমন হতো তা অন্বেষণ করে, তা সে মৃতদেহের পুনরুজ্জীবিত হওয়া, নক্ষত্রমন্ডলের মধ্যে আলোর চেয়ে দ্রুত ভ্রমণ, অথবা অতি-বুদ্ধিমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হোক। প্রযুক্তি চালু হওয়ার পর বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী খুব দ্রুত সাহিত্যকর্ম থেকে চলচ্চিত্রে রুপান্তরিত হয়। “ বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ” কথাটি ১৯২৯ সাল পর্যন্ত তৈরি করা হয় নি। ৪০০ বছরের পুরোনো একটি গল্প, যে একজন রহস্যময় রাজকীয় বিবাহে ভ্রমণ করে, তা হল “প্রথম বিজ্ঞান কল্পকাহিনী উপন্যাস”, যা মেরি শেলির ফ্রাঙ্কেনস্টাইন এবং পরবর্তীকালে পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচিত অন্যান্য লেখকদের অনেক আগে থেকেই লেখা, পুরষ্কার প্রাপ্ত লেখক জন ক্রাউলি। তার মতে, এই ধারাটি শুরি হয় জোহান ভ্যালেন্টিন আন্দরেয়ের ১৬১৬ সালের রচনা “ দ্য কেমিক্যাল ওয়েডিং” দিয়ে, যার একটি নতুন সংস্করণ তিনি নভেম্বরে প্রকাশ করেন। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর জননী হলেন মেরি ওলস্টোনক্রাফট শেলি।

 

আইজ্যাক আসিমভ সর্বকালের সবচেয়ে সুপরিচিত এবং প্রভাবশালী সেরা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখক। তিনি ফাউন্ডেশন সিরিজ, গ্যালাকটিক এম্পায়ার সিরিজ এবং রোবট সিরিজের জন্য সর্বাধিক বিখ্যাত, যা একই কাল্পনিক মহাবিশ্বে সেট করা হয়েছে। বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকের বেশিরভাগ সময় ধরে ক্লার্ক, আইজ্যাক আসিমভ এবং রবার্ট এ.হেনলেইন অনানুষ্ঠানিকভাবে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখকদের ‘ বিগ থ্রি ’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর যাত্রা সবচেয়ে আগে ইউরোপে, বিশেষ করে ফ্র্যান্স ও ইংল্যান্ডে শুরু হয়েছিল। উল্লেখযোগ্য সূচনা!। ১. ইংল্যান্ড:- মেরি শেলির লেখা “ Frankenstein (1818)” -কে আধুনিক বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর সূচনা হিসেবে ধরা হয়। এতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও নৈতিক প্রশ্ন একসাথে মিশে গেছে। পরে এইচ জি. ওয়েলস এর “ The Time Machine”, “ The war of the worlds”, “ The Invisible Man” ইত্যাদি রচনাগুলো ১৮৯০ এর দশকে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ২. ফ্র্যান্স :- জুল ভার্ন এর লেখা “ Journey to the Center of the Earth (1864)”, “ Twenty Thousand Leagues Under the Sea (1870)”, “ From the Earth to the Moon (1865)” এইসব বই বিজ্ঞান ও কল্পনার এক অসাধারণ মিশ্রণ ছিল। তাই তাকে “ বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর জনক” বলেও অনেকে অভিহিত করেন। বাংলা সাহিত্যে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর যাত্রা হয় উনবিংশ শতকের শেষদিকে আর জনপ্রিয়তা পায় বিংশ শতকের মাঝামাঝি থেকে। ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশের লেখকরা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করেছেন। বাংলা সাহিত্যের প্রথম বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী বলে মনে করা হয় জগদানন্দ রায়ের লিখিত “ রহস্যময় আত্না”। এটি ১৮৭৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিল “বঙ্গদর্শন” পত্রিকায়।

 

গল্পটি চাদে ভ্রমণ নিয়ে রচিত – যা সেই সময়ে একদম নতুন কল্পনা ছিল। জগদীশচন্দ্র বসু, তিনি বিজ্ঞানী হলেও বাংলা ভাষায় কিছু বৈজ্ঞানিক রচনা ও ছোটগল্প লিখেছেন যেগুলোতে কল্পনার ছোঁয়া ছিল। “ নিরুদ্দদেশের কাহিনী ” একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। সত্যজিৎ রায়, বাংলা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী জনপ্রিয় করে তোলার অন্যতম পথিকৃৎ। তার সৃষ্টি “ প্রফেসর শঙ্কু” চরিত্রটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই সিরিজের গল্পগুলো তে বিজ্ঞানে ব্যবহার, রোমাঞ্চ এবং বুদ্ধিমত্তা একসাথে মিশে আছে। হুমায়ূন আহমেদ, তিনি বাংলায় আধুনিক বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীকে জনপ্রিয় করেন। তার লেখা “ নিশিথিনী”, “অ্যান্ড্রোমিতা”, “তন্দ্রবি-লাস” ইত্যাদি বইগুলো বিজ্ঞান ও কল্পনার এক দারুণ সমন্বয়। এভাবে বাংলা সাহিত্যে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর যাত্রা চলতে থাকে। সময়ের সাথে সাথে বাংলা সাহিত্যেও বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় অংশ হয়ে দাঁড়ায়। বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের একটা বড় অংশ বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর ভক্ততে পরিণত হয়। লেখকরাও বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখার জন্য উঠেপড়ে লাগে। তবে বর্তমান বিশ্বের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীকে ঘিরে পত্রিকাও আছে। এদের মধ্যে জনপ্রিয় পত্রিকাগুলো হলো: Amazing stories (1926), Analog Seience Fiction and Fact, The Magazine of Fantasy & Science Fiction, Galaxy Science Fiction, Clarkesworld Magazine, Interzone, Asimov’s Science Fiction, ইত্যাদি। এই পত্রিকাগুলো বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর ইতিহাস ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রাচীনকালে বা অতীতে বিশ্বে জনপ্রিয় অনেক সিরিজ ছিল।

 

যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য : Star Wars (1977), Star Trek (1966), Doctor Who (1963), The Expance (2011), Dune (1965), Black Mirror (2011), Stranger Things (2016), ইত্যাদি। এদের মধ্যে কিছু কাহিনী থেকে চলচ্চিত্রও তৈরী করা হয়েছ। তাদের মধ্যে Star Wars থেকে যে ফিল্ম তৈরি করা হয়েছে তার নাম Star Wars: Episode IV-A Ne Hope। Star Trek থেকে একটি TV সিরিজ বের হয় নাম Star Trek: The Original Series। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম এবং এ এখনো জনপ্রিয় বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর কিছু বইয়ের নাম বলবো। এগুলো বাংলা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর ভিত্তি তৈরি করেছে। এবং এখনো পাঠকপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। উল্লেখযোগ্য : টুংটাং (১৯৩০), জ্যোতির্বিদ শঙ্কু ( ১৯৬১), টেনিদা সিরিজের ‘কাণ্ডারী ভূত’ ( ১৯৫০), মাসুদ রানা সিরিজের ‘দানব রোবট’ (১৯৭০), কপালকুণ্ডলা ২০৩৫ ( ১৯৮০), গণদেবতা গ্রহে অভিযান ( ১৯৭৫)। এগুলো বাংলা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর প্রথম দিকের (১৯৩০-১৯৮০) জনপ্রিয় বই ও সিরিজ, যা এখনো সময়োপযোগী ও পঠিত। এখন, বার্তমান বিশ্বের জনপ্রিয় কিছু বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর সিরিজের সম্পর্কে বলবো। সিরিজগুলোর নাম দেওয়া হলো:

 

১) Dune সিরিজ ( 1965) : এটি লেখেন Frank Herbert। এখানে, ভবিষ্যতে, এক মরুভূমি গ্রহ Arrakin এ বিরল ‘স্পাইস’ নামক মহামূল্যবান পদার্থের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন পরিবার ও রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। Paul Atreides নামের এক তরুণ ভবিষ্যৎ নেতা হয়ে ওঠে, যে ধর্ম, রাজনীতি ও পরিবেশগত শক্তির মিলনে বিশাল গ্যালাকটিক যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়ায়। এই সিরিজের উল্লেখযোগ্য বই : Dune Messioh, Children of Dune ইত্যাদি।

 

২) Foundation সিরিজ (1951) : এটির লেখক Isaac Asimovi। এখানে, ভবিষ্যতের গ্যালকটিক সাম্রাজ্য ধ্বংসের মুখে। Hari Seldon নামের এক গণিতবিদ ‘psychohistory’ নামক একটি ভবিষ্যৎ গণনার পদ্ধতি আবিষ্কার করে। এই বিজ্ঞান ব্যবহার করে সে একটি পরিকল্পনা করে, যাতে সাম্রাজ্য ধ্বংসের পর সভ্যতা দ্রুত পুর্নগঠন করা যায়। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তৈরি হয় Foundation। এই সিরিজের উল্লেখযোগ্য বই : Foundation, Foundation and Empire, Second Foundation।

 

৩) The Three-Body Problem সিরিজ (2006) : এটা রচনা করেন Liu Cixin। তিনি চীনের অধিবাসী। এখানে, চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পটভূমিতে এক বিজ্ঞানী ভিনগ্রহের সভ্যতার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। পৃথিবী ধীরে ধীরে সেই সভ্যতার হুমকির মুখে পড়ে।বইটি কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যা, সৃষ্টিতত্ত্ব ও সভ্যতার সংকট নিয়ে রচিত, যেখানে বাস্তব ও কল্পনা একসাথে গেঁথে যায়। এই সিরিজের উল্লেখযোগ্য বই : The Three-body Problem, The Dark Forest, Death’s End।

 

৪) Ender’s Game সিরিজ (1985) : এটি রচনা করেন Orson Seottcard। এতে ভবিষ্যতে, পৃথিবী এক ভিনগ্রহের শত্রুর মুখোমুখি। Ender Wiggin নামের এক শিশু জিনিয়াসকে মহাকাশে একটি যুদ্ধ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানেই সে শেখে কৌশল, নেতৃত্ব ও নৈতিকতার কঠিন পাঠ – এবং একটি বড়সড় যুদ্ধের প্রধান ভরসা হয়ে ওঠে। এই সিরিজের উল্লেখযোগ্য বই : Ender’s Game, Speaker for the Dead, Xenocide ইত্যাদি।

 

৫) The Expanse সিরিজ (2011) : এটার লেখক James S.A. Corey। এতে, মানবজাতি সৌরজগতে বিস্তৃত হয়েছে – পৃথিবী, মঙ্গল ও ‘বেল্ট’ নামক অঞ্চলে। এইসব অঞ্চলের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, যুদ্ধ ও অজানা ভিনগ্রহীয় প্রাণীর হুমকি এক ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। কেন্দ্রীয় চরিত্র Holden ও তার দল ধীরে ধীরে এক মহাবিপদের মুখোমুখি হয়। এই সিরিজের উল্লেখযোগ্য বই : Leviathan Wake। এই সিরিজে বই মোট ৯টি।

 

বাংলা সাহিত্যেও অনেক জনপ্রিয় বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর সিরিজ রয়েছে। যা এখনো মন জুড়ানো। বাংলা সাহিত্যের মধ্যে বর্তমান জনপ্রিয় কিছু সিরিজের কথা উল্লেখ্য করা হলো :

 

১) মিসির আলি সিরিজ (১৯৮৫) : এটির লেখক হুমায়ুন আহমেদ। মিসির আলি একজন মনোবিজ্ঞানী, যুক্তিবাদী, কিন্তু রহস্যময় ঘটনা তার জীবন ঘুরে ফিরে আসে। কিছু গল্পে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর আভাস আছে, তবে পুরোপুরি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নয়। এই সিরিজে ২০টিরও বেশি বই আছে। এই সিরিজের প্রথম বইয়ের নাম “দেবী”।

 

২) নকিব সিরিজ () : এটা মোহাম্মদ জাৈর ইকবালের লেখা। বইয়ের সংখ্যা কয়েকটি। এই সিরিজের কাহিনী ভবিষ্যতের পৃথিবী এবং মহাকাশ অভিযানের সাথে সম্পর্কিত। এই সিরিজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এলিয়েন, মহাকাশ ভ্রমণের মতো বিষয় রয়েছ।

 

৩) রাহা সিরিজ () : এটি লিখেছেন তৌফিক এলাহী। এখানে, রাহা নামক এক কিশোর ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি ও রোবটিক্স সমপৃক্ত কাহিনী। কল্পবিজ্ঞান ধর্মী অ্যাডভেঞ্চারও থ্রিলারের মিশেল। এই সিরিজরে বই সংখ্যা ৩ থেকে ৪টি। তবে আরও বই বের হতে পারে।

 

বাংলা সাহিত্য শিশু-কিশোর উপযুগী জনপ্রিয় কল্পকাহিনীর বই আছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বই হলো:

১) টুনটুনির মহাকাশযাত্রা ( ১৯৯৯) : মোহাম্মদ জাফর ইকবাল লিখেছে বইটি। মহাকাশ ভ্রমণ নিয়ে লেখা একটি সহজবোধ্য ও কল্পনাপ্রবণ গল্প, ছোটদের জন্য উপভোগ্য।

 

২) পৃথিবীর শেষ দিন (২০০৩) : মোহাম্মদ জাফর ইকবাল লিখেছে। বিশ্বনাশ ও ভবিষ্যতের প্রযুক্তিকে ঘিরে শিশু-কিশোরদের জন্য লেখা উত্তেজনা পূর্ণ লেখা।

 

৩) অপারেশন কাকতাড়ুয়া ( ২০১৫) : এটির লেখক মোস্তফা কামাল। একটি কিশোর গ্যাংয়ের প্রযুক্তি নির্ভর অভিযানের গল্প, যেখানে রোবট ও হ্যাকিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

৪) রোবটবাবু ( ১৯৯০) : লেখক রকিব হাসান। এটি তপু সিরিজের। একটি রোবটকে ঘিরে শিশু-কিশোরদের মধ্যে কৌতূহল ও উত্তেজনার গল্প।

 

৫) টাইম মেশিন ( ২০১২) : লেখক এইচ.জি.ওয়েলস। রূপান্তর মুনির হাসান। সময় ভ্রমণ নিয়ে শিশুদের জন্য সজহ করে উপস্থাপিত একটি রুপান্তরিত বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী।

 

আর যারা নতুন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী পড় শুরু করতে চাও তাদের জন্য একটা সাজেশান আছে। সাজেশানটা ২ভাগে ভাগ করেছি। একভাগ কিশোর পাঠকদের জন্য, অন্যটি প্রাপ্তবয়স্ক পাঠকদের জন্য। এই লিস্ট অনুযায়ী বই পড়লে উপভোগ করতে পারবে।ইনশাআল্লাহ!

১) কিশোর পাঠকদের জন্য :

  1. i) একটি অদ্ভুত গবেষণা – সত্যজিত দাস।
  2. ii) তোমাকে – মোহাম্মদ জাফর ইকবাল।

iii) কপোট্রানিক ভালোবাসা – মোহাম্মদ জাফর ইকবাল।

  1. iv) নিখোঁজ মানব – হুমায়ূন আহমেদ।
  2. v) শঙ্কু ও এল ডোরাডো – সত্যজিত রায়।
  3. vi) তৃতীয় প্রজাতি – মোহাম্মদ জাফর ইকবাল।

 

২) প্রাপ্ত বয়স্ক পাঠকদের জন্য :

  1. i) টেলিপ্যাথি – মোহাম্মদ জাফর ইকবাল।
  2. ii) তাণ্ডব – হুমায়ূন আহমেদ।

iii) শঙ্কু ও মহার্ঘ রত্ন – সত্যজিত রায়।

  1. iv) আই.রোবট – আইজ্যাক আসিমভ ( অনুবাদ)
  2. v) টাইম মেশিন – এইচ.জি.ওয়েলস ( অনুবাদ)
  3. vi) রামা ট্রিলজি – আর্থার মি.ক্লার্ক ( অনুবাদ)

 

এভাবে তোমরা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী পড়া শুরু করলে উপভোগ করতে পারবে। শেষে একটা মজার তথ্য দিই। তা হলো, প্রতি বছর ২ই জানুয়ারি-কে অনেকে “National Science Fiction Day” হিসেবে পালন করে, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রে। যদিও এটি সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক বা জাতিসংঘ দ্বারা স্বীকৃত কোন দিবস নয়। তবে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী প্রেমীদের মধ্যে এটি ব্যাপক গৃহীত ও উদযাপিত হয়। মূলত, এই দিনটি আইজ্যাক আসিমভের জন্মদিন হওয়ায় তা প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে। আসিমভ ছিলেন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর সাহিত্যজগতের অন্যতম কিংবদন্তি ব্যাক্তিত্ব। ফলে তার সম্মানে এই দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছে। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী সাহিত্য জগতে অন্যান্য।

 

বাংলাদেশে কিছু জনপ্রিয় পত্রিকা আছে বিজ্ঞান বিষয়ক যেখানে প্রায় বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী প্রকাশিত হয়, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিজ্ঞানচিন্ত, ব্যাপন ও Divention। এই সব পত্রিকায় অনেক সুন্দর ও আকর্ষণীয় বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী প্রকাশিত হয়। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী অনেক বেশি আনন্দদায়ক। বর্তমানে বাংলাদেশে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর জনপ্রিয়তা আছে, যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও দেশে বিভিন্ন জায়গায় বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে অনেক। আশা করা যায় বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী অনেক জনপ্রিয়তা পাবে। বর্তমানে অনেক বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর মুভি,কার্টুন ও ফিল্ম সিরিজ বের হয়েছে সাথে জনপ্রিয়তাও পেয়েছ। বাঙালি পাঠকরা এসবের ভক্ত হয়ে গেছে।

(সমাপ্তি)

 

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ ইচ্ছাশক্তি
Theme Customized By Shakil IT Park