
সাবিত রিজওয়ান
জীবনে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যেগুলোতে অটল থাকা সহজ নয়। মন ভেঙে দিতে চায়, শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে, চারপাশের মানুষ প্রশ্ন তোলে। তবু সেই সিদ্ধান্তগুলো আঁকড়ে ধরতেই হয়—কারণ অনেক সময় সেখানেই লুকিয়ে থাকে ভবিষ্যতের শান্তি। মানুষকে একসময় বুঝতে হয়, “তুমিই তোমার”—এই কথাটার গভীর অর্থ কী।
আমরা ভালোবাসার কথা বলি, কিন্তু ভালোবাসা সব সময় পারস্পরিক হয় না। অনেক ক্ষেত্রে ভালোবাসা একতরফা বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘ সময় যোগাযোগ না রাখলেও কেউ খোঁজ নেয় না—এই বাস্তবতা নির্মম হলেও সত্য। পরিচিতির ভিড় খুব দ্রুতই অচেনা হয়ে যায়। সম্পর্কের সংখ্যার চেয়ে সম্পর্কের দায়বদ্ধতাই আসলে বড়—এ কথাটি আমরা বুঝি দেরিতে।
একজন মায়ের কথা এখানে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি বলেন, যতদিন তুমি অন্যের খোঁজ নেবে, ততদিনই কেউ তোমার খোঁজ নেবে—এই ধারণা সব সময় সত্য নয়। ভালোবাসা মানেই প্রেম নয়, আর প্রেম মানেই ভালোবাসা নয়। অনেক সময় যেটাকে একজন ভালোবাসা ভাবে, অন্যজন সেটাকে চাপ বা বিরক্তি হিসেবে নেয়। এই বাস্তবতা মেনে নেওয়াও পরিণত হওয়ার অংশ।
তবে আবেগের ভেতর হারিয়ে গেলে চলবে না। পড়ালেখা ছেড়ে দেওয়া, কর্মবিমুখ হওয়া—এগুলো কোনো সমাধান নয়। জীবনে টিকে থাকতে হলে কাজ করতে হয়, ইনকাম করতে হয়। বাস্তবতা মেনে নিয়ে, কখনো সাময়িকভাবে আপস করেও, কৌশলে নিজের স্বাধীনতা অর্জনের চেষ্টাই প্রকৃত সম্মান। দাসত্ব মেনে নেওয়া নয়, বরং দাসত্ব ভেঙে বেরিয়ে আসার প্রস্তুতিই জরুরি।
এই সমাজে অনেক তরুণ-তরুণী আবেগ, সম্পর্ক ও অনিশ্চয়তার চাপে দিকভ্রান্ত হচ্ছে। তাদের জন্য এই লেখার উদ্দেশ্য কোনো উপদেশ দেওয়া নয়; বরং একটি কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া—নিজের সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে শিখুন, নিজের পথে হাঁটার সাহস রাখুন। কারণ শেষ পর্যন্ত কেউ আপনার জীবন আপনার হয়ে বাঁচবে না।
নিজের সুখ, নিজের ভবিষ্যৎ—সব কিছুর দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত নিজেরই।