
আল হাফিজ
রোজ শুক্রবার (২১ নভেম্বর ২০২৫) সকাল ১০:৩৮ মিনিটে ভূমিকম্পের মাত্রা রিখটার স্কেলে ৫. ৭।
ভূমিকম্প আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া একটি সতর্কবার্তা ও শাস্তি। যখন কোনো জাতির মধ্যে অশ্লীলতা, অপকর্ম, অবিচার ও নানান বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে, তখন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সতর্ক করার জন্য আজাবের মাধ্যমে সাবধান করেন, যেন তারা ভবিষ্যতে এমন কাজ থেকে ফিরে আসে। কিন্তু যারা সতর্ক হয় না, তাদের জীবনেই নেমে আসে কালবৈশাখী ঝড় ও আজাবের ঝঞ্ঝাবায়ু। সহিহ বুখারি (হাদিস: ১০৩৬)-এ রাসুল ﷺ বলেন, কিয়ামতের আগে ভূমিকম্প বাড়বে।
আজ আমাদের দেশে যে অশ্লীলতা, খুনাখুনি, চুরি, রাহাজানি, ধর্ষণ, হামলা-মামলা এসবের একটাই কারণ: আমাদের গুনাহ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে এবং সীমালঙ্ঘন হয়েছে। যখনই কোনো জাতি সীমালঙ্ঘন করে, তখনই আল্লাহ তাআলা সেই জাতিকে কোনো না কোনো আজাবের মাধ্যমে ধ্বংস করে দেন। অতীতে যত জাতি ধ্বংস হয়েছে সবাই সীমালঙ্ঘনের কারণেই আল্লাহর গজবের শিকার হয়েছিল। আমরাও অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে যেতাম, শুধু একটি কারণেই আজও রক্ষা পেয়েছি আমাদের প্রিয় নবী, সাইয়েদুল মুরসালিন, নবীউর রহমাহ তিনি দোয়া করেছিলেন: হে আল্লাহ! আমার উম্মতকে তুমি মহাভারী দ্বারা ধ্বংস করো না।
নবীর এই দোয়া এবং আল্লাহর কৃপায় আমরা আজও বেঁচে আছি। কিন্তু এর মানে এই নয় যে আমরা গুনাহ করতে থাকবো। কারণ যিনি ভালোবাসতে জানেন, তিনিই ঘৃণাও করতে জানেন। আমরা শুধু মুখে বলি মুসলিম, নবীর সুন্নত অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করি না। আমাদের মুখে ইসলাম, অন্তরে নয়। তাই আমাদের প্রথমে ঈমান ও আমল ঠিক করতে হবে, তবেই জীবনে আসবে শান্তি ও রহমত। সূরা ফাতির (৩৫:৪৪)-এ আল্লাহ বলেন, তোমরা ভূমিতে ভ্রমণ করো, দেখবে আগের জাতিদের আল্লাহ কিভাবে ধ্বংস করেছেন যার মধ্যে ভূমিকম্পও অন্তর্ভুক্ত।
তাই মৃত্যুর আগে আমাদের সচেতন হতে হবে, আল্লাহকে রাগান্বিত করে এমন সব কাজ থেকে দূরে থাকতে হবে। হে আল্লাহ! আমাদেরকে আপনার আদেশ এবং রাসুল ﷺ–এর দেখানো পথে চলার তাওফিক দিন। আমিন।