
একদিন মাসুম ভূইয়ান তাঁর বন্ধু আহসানের বাড়িতে বেড়াতে গেলেন। আহসানদের বাড়ি ছিল নদীর তীরের পাশে। দিনভর গল্প আর হাসি-মজায় সময় কেটে গেলো খুব আনন্দে। কিন্তু রাত হয়ে যাওয়ায় তিনি আর নিজের বাড়ি ফিরতে পারলেন না। আহসানের মা বললেন,“রাত হয়েছে বাবা, আজ এখানেই থেকে যাও।”
মাসুমও রাজি হলেন। রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়ল।
পরদিন সকালে ঘুম ভাঙতেই মাসুমের নাকে এল এক তীব্র দুর্গন্ধ। তিনি অবাক হয়ে আহসানকে জিজ্ঞেস করলেন,“এই গন্ধটা কোথা থেকে আসছে?”
আহসান বলল,“নদীতে ময়লা-আবর্জনা জমে আছে, ক্লিয়ার হতে একটু সময় লাগবে।”
মাসুম বলল,“চলতো দেখে আসি।”
আহসান হাসতে হাসতে বলল,“আচ্ছা দাঁড়া, আগে ব্রাশটায় পেস্ট ভরে নিই!”
ব্রাশ করে তারা দু’জনে নদীর ধারে গেল। গিয়ে দেখল, পানির রঙ ঘোলা হয়ে গেছে, ভাসছে প্লাস্টিক, পচা সবজি আর মৃত মাছ। নদীর পাশের সৌন্দর্য যেন হারিয়ে গেছে।
মাসুম বলল,“পানির তো স্রোত কম, যতটুকু মাছ ছিল, সব যদি মারা যায়—বিষয়টা খুব খারাপ না? এসব ময়লা কই থেকে আসে?”
আহসান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,“এগুলো বাজারের ময়লা, বাসাবাড়ির আবর্জনা। ট্রাকে করে এনে নদীর ধারে ফেলা হয়। কেউ সচেতন নয়, তাই এত দূষণ।”
মাসুম অবাক হয়ে বলল,“কেউ কি নিষেধ করে না?”
আহসান বলল,“নির্দেশ আছে নামমাত্র, কিন্তু বাস্তবে কেউ নজর দেয় না। কেউ দায়িত্বশীল না হলে যেকোনো জায়গা দূষিত হতে পারে।”
মাসুম নদীর দিকে চুপচাপ তাকিয়ে রইল। তাঁর মনে কাজী নজরুল ইসলামের সেই কবিতার লাইনটি উঁকি দিল “আমরা যদি না জাগি মা, কেমনে সকাল হবে?”
সে নিজেকে প্রশ্ন করল, “আমি কি এখনও ঘুমন্ত? একবার জেগে দেখি, কি ফলাফল হয়।”
সেই মুহূর্তে মাসুম নিজের মনে দৃঢ় সংকল্প নিল—
তিনি এই ঘটনার খবর লিখবেন, সবাইকে জানাবেন, এবং প্রকৃতির এই কষ্ট যেন আর কেউ ভুলে না যায়।
সেই থেকেই শুরু হয় মাসুমের সাংবাদিকতার যাত্রা। এভাবেই একজন সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে তার অসাধারণ প্রতিভার আলোকে ছড়িয়ে দেয়।