1. admin@ichchashakti.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন

দ্বীনি কথা —– জেড এইচ ফাহাদ 

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৮৪ বার প্রতিবেদনটি দেখা হয়েছে

দ্বীনি কথা

জেড এইচ ফাহাদ 

 

“ আসসালামু আলাইকুম! দাদুভাই। ” আলী বলে।“ ওয়ালাইকুম সালাম! দাদুভাই, হঠাৎ কি মনে করে?” তার দাদা জিজ্ঞেস করে। “না মানে…। আসলে আমি তোমার কাছ থেকে ইসলাম সম্পর্কে জানতে এসেছি।”“ মাশা আল্লাহ! তুমি ইসলাম সম্পর্কে জানতে চাও শুনে আমি খুশি হয়েছি। তোমার আগ্রহ দেখে আমি গর্বিত।”“ ধন্যবাদ! দাদুভাই।” আলী এখন পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে। অনেক ভদ্র ও বুদ্ধিমান ছেলে সে। সে হঠাৎ ইসলাম সম্পর্কে জানার জন্য দাদুর কাছে এসেছে। ” তুমি কি মানুষের পরিচয় জানো? মানুষের শরীরটাই আসল মানুষ নয়। শরীরের মধ্যে যে রুহ (আত্মা) আছে সেটাই মানুষ। দুনিয়ায় যত মানুষ ছিল, আর যত হবে। সব মানুষের রুহ আগেই তৈরি হয়েছে। এসব রুহ থেকে কোথায় তা আমাদের জানার উপায় নেই। যখন আল্লাহ যেকোন রুহকে দুনিয়ায় পাঠাতে চান তখন তার জন্য মায়ের পেটে মানুষের একটা ছোট শরীর তৈরি করে এর মধ্যে রুহ দেন। জন্মের পর সে শরীরটা বড় হতে থাকে।

 

পৃথিবীতে এই শরীরটা দিয়ে মানুষ সব কাজ করে। মানুষ যখন মরে তখন শুধু শরীরটাই মরে। রুহ আবার শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায়। কিন্তু আলাদা হয়ে কোথায় থাকে এবং কীভাবে থাকে তা দুনিয়ায় থেকে বোঝা যায় না। তুমি ভাবছ, এত কথা আমি কেমনে জানলাম? আসলে মানুষ নিজে নিজে এসব কথা জানতে পারে না। এসব বিষয় আল্লাহ তাআলা নবীকে শিখিয়ে দিয়েছেন। নবীর ওই সব শেখা কথা কুরআন ও হাদিসে আছে। সেখান থেকেই আমাদের জানতে হবে।”“ দাদুভাই,মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য কি?” “ আল্লাহ তাআলা কুরআনে এরশাদ করেছেন :‘ জ্বিন এবং মানুষকে আমি একমাত্র আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি। ’[ আয-যারিয়াত :৫৬]।

 

সুতারাং মানুষের একমাত্র কাজ হচ্ছে আল্লাহর ইবাদত করা। এ উদ্দেশ্য সাধনের জন্যই তিনি পৃথিবীতে নবী-রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন। ‘ আমি প্রত্যেক জাতির কাছেই রাসূল পাঠিয়েছি। তাঁরা তাদের জাতির কাছে এ আহ্বানই করেছিল : তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, আর ‘তাগুত’ (খোদাদ্রোহী শক্তিকে) পরিহার কর। অত:পর তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক লোককে হেদায়াত দান করেছেন আর কিছু সংখ্যক লোকের জন্য গোমরাহীকে অবধারিত করে দিয়েছেন।’[ আন-নাহল :৩৬]। ইবাদতকে মানুষের জন্য মৃত্যু পর্যন্ত অবধারিত করে দিয়েছেন। তিনি বলেন : ‘ তুমি তোমার রবের ইবাদত করতে থাক, তোমার কাছে মৃত্যু আমার পূর্ব পর্যন্ত। ’ [ আল-হিজল :৯৯]।

 

অন্যদিকে যারা আল্লাহর ইবাদতের পরিবর্তে তার নাফরমানী করে, তাদেরকে তিনি দোষারোপ করেছেন। তিনি তাদের ব্যাপারে এরশাদ করেছেন :‘ তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। নিশ্চয় যারা আমার ইবাদতের ব্যাপারে নাফরমান ও অহংকারী হয়, তারা শীঘ্রই অত্যন্ত লান্ঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’[ আল মু’মিন :৬০]।

 

আরবি‘আবাদ’ শব্দ থেকেই ইবাদত শব্দ তৈরি হয়েছে। আবদ বা আবদুন মানে দাস বা গোলাম। মুসলমান নিজেকে আল্লাহর দাস মনে করে গৌরবোধ করে। ‘ইবাদত’ শব্দের অর্থ দাসত্ব। দাসের কাজ হলো মনিবের কথামতো কাজ করা। আমাদের আসল মনিব আল্লাহ। ইবাদতের সঠিক মানে হলো আল্লাহর হুকুমতো সব কাজ করা। দুনিয়ার সব কাজই ইবাদত যদি তা আল্লাহর হুকুম মতো করা হয়, ইসলাম মানে শান্তি। নবীগণ আল্লাহর কাছ থেকে যা কিছু শেখেন একসাথে সেসবটুকুকেই ইসলাম বলে। ইসলাম কুরআন ও হাদিসেই পাওয়া যায়। ইসলাম আরবি শব্দ। ইসলাম না শিখলে মানুষ তেমনি ভুল করবে যেমন শুশু না জেনে ভুল করে। তাই দুনিয়ায় ও আখিরাতে সুখ পেতে ইসলামকে জানতে হবে। কুরআন শব্দের অর্থ, যা পড়া উচিত। কিতাব আরবি শব্দ, এর অর্থ হলো বই। কুরআন আল্লাহর কিতাব। আমরা যেসব বই কিনি তা লেখার পর প্রেসে ছাপিয়ে বাজারে আনা হয়েছে।

 

কুরআন কিন্তু এভাবে দুনিয়ায় আসে নাই। আল্লাহ তায়ালা নিজেই কুরআন রচনা করেছেন, কিন্তু তিনি নিজে ছাপিয়ে দুনিয়ায় পাঠাননি। বই আকারে এ কুরআন মানুষের কাছে আসেনি।”“ তাহলে কিভাবে এসেছে,দাদুভাই?”“ হযতর জিবরাইল (আ:) একজন বড়ো সম্মানিত ফেরেশতা। আল্লাহর কাছ থেকে তিনি কুরআনের কথাগুলো মুহাম্মদ (সা:) এর কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। কুরআনে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার আয়াত আছে। একসাথে সবটুকু নাজিল হয়নি। আল্প আল্প করে জিবরাইল (আ:) মুখে উচ্চারণ করে রাসূল (সা:) কে শুনিয়ে দিতেন। আর রাসূল (সা:) শুনে শুনে মুখস্থ করতেন তেমনই সাহাবাগণও মুখস্থ করতেন। রাসূল (সা:) যেভাবে মুখস্থ করতে তেমনিই সাহাবিগণও মুখস্থ করতেন। এখাবে কুরআন দীর্ঘ তেইশ বছরে নাজিল হয়। কুরআন যে সত্যি আল্লাহর কিতাব এর প্রমাণ অনেক। একটা প্রমাণ সবার জানা, যেটা হলো কুরআন সহজেই মুখস্থ হয়।

 

আল্লাহ তাআলা কুরআনকে হেফাজত করার জন্য মুখস্থ করা সহজ করে দিয়েছেন। যে কুরআনের সূরা বেশি মুখস্থ করে আল্লাহ তার মুখস্থ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেন।” আলী প্রশ্ন করে, “ দাদুভাই, জাহেলিয়াত কাকে বলে?”“ জাহেলিয়াত অর্থ মূখতা অজ্ঞনতা বা অজ্ঞতা। ইসলামী পরিভাষায় জাহেলিয়াত শব্দটি ইসলামের বিপরীত অর্থে ব্যবহার হয়। ইসলামের বিপরীত জ্ঞানকে জাহেলিয়াত বলে। আমরা মানুষ। আমরা আমরা কি ভালো হতে চাই না? অবশ্যই চাই কিন্তু শুধু চাইলেই আর ভালো হওয়া যায় না। যদি এমন কোনো আদর্শ মানুষ পাওয়া যায় যিনি সবচেয়ে ভালো মানুষ, তাহলে তাকে দেখে দেখে নিশ্চয়ই ভালো হওয়া যাবে। যে আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তাই আমরা রাসূলকে অনুসরণ করবো। দুইটি জিনিস একত্র হওয়া ছাড়া বান্দার ইবাদত পূর্ণতা লাভ করবেনা। এক: আল্লাহই তার কাংঙ্ক্ষিত মাহবুব ও মাবুদ। দুই: সকল কাজে তার মাবুদের উপর ভরসা করাও সাহায্য কামনা করা।

 

অতএব বান্দা যখন গাইরুল্লাহর ভালোবাসার প্রতি ঝুঁকে পড়বে, তখনই তার বান্দায় পরিণত হবে।”“আচ্ছা!দাদুভাই, জাহিলিয়্যাতের দিকে আহ্বানকারীর ইবাদত কি কবুল হবে?” “ কখনও না। রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, যে ব্যাক্তি মানুষকে জাহিলিয়্যাতের দিকে আহ্বান করে সে জাহান্নামী। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলে, হে আল্লাহর রাসূল (সা:)! সালাত কায়েম ও সিয়াম পালন করা সত্ত্বেও?  উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা:) বললেন, সালাত কায়েম ও সাপম পালন এমনকি নিজেকে মুসলমান বলে দাবী করলেও সে জাহান্নামী। [আহমাদ,হাকিম]। তুমি কি জানো? প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার বেহেশতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। যারা আল্লাহর সাথে শিরক করেনি তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়। কিন্তু পরস্পর সম্পর্ক ছিন্নকারী  ব্যাক্তিদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

 

যতক্ষণ না তারা নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় আসে। তাই, কারো সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে না। আজ এতটুকুই না হয় থাক। এখন আমরা উঠি কি বল?” “ তুমি যা ভালো মমে কর।”“ আজ কিছু কি শিখলে তুমি?” “ হ্যা। আলহামদুলিল্লাহ!  অনেক কিছু শিখেছি। কাল আবার তোমার কাছ থেকে শিখবো। কি বল?” “ অব্যশই। দাদুভাই, দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করাও ইবাদত। ”

 

(সমাপ্তি)

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ ইচ্ছাশক্তি
Theme Customized By Shakil IT Park