
তনয়ার বিয়ের পর নতুন সংসারে সবকিছুই যেন নতুন অনুভূতি। সিনহা—শ্বশুরবাড়ির ননদ, সবার আদরের। প্রথম দিন থেকেই তনয়াকে বোনের মতোই দেখে। কিন্তু একটি বিষয় সবসময় তাকে অস্বস্তি দিত—রাত গভীর হলে সিনহা বাড়ির পুরোনো স্টোররুমের দিকে যেত, দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ করে ঘণ্টাখানেক থাকত। কেউ জিজ্ঞেস করলে শুধু হাসত, বলত—“আমার সময়।”
তনয়ার মনে কৌতূহল আর সন্দেহ জমে উঠল। সংসারে মেয়েদের অনেক দায়িত্ব, তবু সিনহা যেন লুকিয়ে কিছু করে। কখনো ফোনে কাঁদত, কখনো চোখ লাল করে বের হতো সেই ঘর থেকে।
এক রাতে তনয়া সাহস করে দরজার কাছে গিয়ে কান পাতল। ভেতরে কারো কণ্ঠ… খুব ধীরে—“মা, আমি আবার ফেল করলাম…”
তনয়া দরজা ঠেলতেই চমকে উঠল। ঘরের এক কোণে কিছু বই, একটি ছেঁড়া ডায়েরি, আর দেয়ালে ঝুলছে সিনহার প্রয়াত মায়ের ছবি। সিনহা চোখ মুছতে মুছতে বলল—
“সবাই ভাবে আমি সুখী। কিন্তু মা নেই… নিজের দুর্বলতা কাউকে বলতে পারি না। এখানে এসে পড়ি, কাঁদি… আবার শক্ত হই। সংসারে সবাই আমার কাছে আশা করে—আমি যদি ভেঙে পড়ি, কে দাঁড়াবে?”
তনয়ার বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল। সে এগিয়ে এসে সিনহার হাত ধরল—
“দেখো, কাউকে একা শক্ত হতে হয় না। পরিবার মানে—ভাগ করে নেওয়া দুঃখও।”
সিনহার চোখে জল গড়ালো, কিন্তু মুখে হাসি ফুটল।
সেদিনের পর স্টোররুমের দরজা আর বন্ধ থাকেনি। তনয়া ও সিনহা দুজন মিলে সেই ঘরটাকে পড়ার টেবিল, আলো ও আশা দিয়ে সাজিয়ে ফেলল।
কিছু রহস্য শুধুই ভয় নয়—
অনেক সময় তা হৃদয়ের চেপে রাখা কান্না,
একটা বোঝা…
যা ভাগ করলে সংসার আরও সুন্দর হয়।