
অথই নূরুল আমিন
গত ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ বাংলাদেশের বিজয় দিবস উদযাপন হয়েছে। দেশের প্রায় সবাই মানে বিভিন্ন দল, সামাজিক ও সাহিত্য সংগঠন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং আম জনতা। তবে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীরে জামায়াত, ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে যেভাবে এই বিজয় র্যালী করা হলো, সরাসরি এই র্যালীতে অংশ নিয়ে যা দেখলাম। তাতে আমি যেমন অবাক হয়েছি, মুগ্ধ হয়েছি, এরকম অবাক হয়েছেন সমগ্র দেশবাসী। তথা বিশ্ববাসী।
স্বাধীনতার চুয়ান্ন বছরের ভিতরে এরকম সুন্দর,এরকম সুশৃঙ্খলভাবে এত পরিমাণ জন সমর্থন নিয়ে, বিজয় দিবস আর কোন দল বা কোন সরকার পালন করতে পারেনি। যারা সারাজীবন এই জামায়াতের মন্দ বলে এসেছে। তারা কেন এই জামায়াতের ব্যাপারে এত মন্দ বলেছে, তা আমার বোধগম্য নয়। আমি জামায়াতের বেশকিছু সভা – সমাবেশ, আলোচনা সভা এমনকি ইফতার পার্টিতে পর্যন্ত উপস্থিত থেকে পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি। তাদের কোন কাজেই আমি অসুন্দর কিছু দেখিনি। জামায়াতের সব বিষয় আমার কাছে সুন্দর লেগেছে। যদিও আমি কোন রাজনৈতিক দলের একনিষ্ঠ ভক্ত নই।
আমি আমার মত করে লেখালেখি করে থাকি। আমি সকল সুন্দর নিয়ে লেখালেখি করার চেষ্টা করি। এদিকে আমার মেধা এত প্রকট নয়। আমি তেল মেরে লেখালেখি করি না। যা সত্য তাই লিখে যাই। জামায়াতের কার্যক্রম আমি যত দেখছি ততই যেন মুগ্ধ হচ্ছি। তারপরও এক শ্রেণির লোক বা কিছু রাজনৈতিক দল সবসময় জামায়াতের মন্দ বলতে শোনা যায়। তাতে আমার কাছে মনে হয়। ঐ সকল রাজনৈতিক দলগুলো জামায়াতের নিয়ম শৃংখলা দেখে হিংসা বা প্রতিহিংসা থেকেই মূলত এসব আজেবাজে বকে থাকেন।
এই তো গতকাল শহীদ শরিফ ওসমান হাদি’ র জানাজা অনুষ্ঠিত হলো। এখানে লক্ষ লক্ষ লোকের সমাগম হলো। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জানাজা এটি তা আমার কাছে মনে হলো । হাদি’ র এই জানাযার আয়োজনেও মুখ্য ভূমিকায় জামায়াতসহ তাদের সমমনা বেশকিছু দল বা সংগঠন। শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে জামায়াত যেভাবে মূল্যায়ন করল। বিগত সময়ে বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দল এরকম একজন বিপ্লবী কে কখনও এত বড় করে মূল্যায়ন করেছে বলে আমার জানা নেইস। যখন এরশাদ বিরোধী আন্দোলন হয়েছিল । সেখানেও সেদিন অসংখ্য বিপ্লবী নিহত হয়েছিলেন । আহত হয়েছিলেন। কিন্তু আমরা দেখেছি নেতৃত্ব দেয়া দলগুলার একটা গাভাসা গাভাসা ভাব।
আজকে আমার কাছে মনে হলো। সত্যি সত্যি যদি জামায়াত বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসতে পারে বা আসে। তাহলে সত্যি সত্যি নতুন বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস হবে। এবং দেশের জনগণ ভালো কিছু পাবে বলে আমার বিশ্বাস। স্বাধীনতার পর থেকে জামায়াতে ইসলামী নামের এই দলটি সবসময় কোনঠাসা হয়েছিল। দেশি বিদেশি চক্রান্তের জন্য। এই দেশের জনগণকে বুঝাতে পারিনি তারাও এই দেশটাকে ভালোবাসে। এরকম একটা আক্ষেপ তাদের মধ্যে বিরাজ করছে বলে তাদের বিভিন্ন কথায় বা আচরণে অনেক সময় তা মালুম করা যায়।
জাগ্রত বিপ্লবী একজন হাদি’ কে জাতীয় শহীদি মর্যাদা দেয়া। বিদ্রোহী কবির কবরের পাশে সমাহিত
করা, এ যেন সত্যিকার অর্থে অনেক বড় মনের পরিচয় দেয়া। বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীর ১৬ তারিখ বিজয় র্যালী, শহীদ হাদি’র” মহা জানাজা ” র আয়োজন করা, কয়েক মাস আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করা, বিভিন্ন বন্যায় খরায় জনগণের পাশে থাকা, জুলাই আন্দোলনের সময় আহত নিহতদের পাশে থাকা। দান অনুদান দেয়াসহ মানবিক কর্মকান্ড গুলো আমার খুব ভালো লেগেছে। দেশের জনগণের একটা অংশ তা পছন্দ করেছে। যার ফলে শহীদ হাদী’র জানাজা এটাই প্রমাণ করে যে, জামায়াত একটি আদর্শবান সংগঠন।