
চামিয়া দৌড়ে গিয়ে সোফার রুমে যায়। আজ ছুটির দিন।তার বাবা সোফায় সংবাদপত্র পড়ছে। সে গিয়ে জিজ্ঞেস করে,“ আব্বু, আমাকে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বলো না!”
“ঠিক আছে বলছি। বলতো কত সালে দেশ বিভাগের পর পাকিস্তান শাসন গোষ্ঠী বাংলাদেশের ওপর শোষণ ও জুলুম শুরু করে।” তার আব্বু বললো।
“ এটা তো একদম সহজ। আমি পড়েছি, ১৯৪৭ সালে।”
“ তাদের এ অন্যায় বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি ধীরে ধীরে আন্দোলন গড়ে তোলে। এভাবে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলন,১৯৬৯ সালে গণ-আন্দোলন সংঘটিত হয়। আন্দোলনকে জোরদার করতে ১৯৭১ সালে ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক জনসভায় ভাষণ দেন শেখ মুজিবুর রহমান। ২৫শে মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গনহত্যা চালায়।”
“ তারপর কি হয়েছিল বল না,আব্বু?”
“২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। ১৯৭১ সালে ১০ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য কোন সরকার গঠিত হয় বলতে পারেব?”
“ মুজিবনগর সরকার।তাই না আব্বু।”
“ তুমি ঠিক বলেছ। এ সময় বাংলাদেশকেম১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।”
“ আমাকে সেক্টরগুলোর নাম বল না!”
“বলছি। সেক্টরগুলো হলো :
সেক্টর ১: চটগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং নোয়াখালী জেলার অংশবিশেষ।
সেক্টর ২ : কুমিল্লা ও ফরিদপুর জেলা এবং ঢাকা প নোয়াখালী জেলার অংশবিশেষ।
সেক্টর ৩ : মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়নগঞ্জ এবং কেরানিগঞ্জের অংশ বিশেষ।
সেক্টর ৪ : উত্তরপ সিলেট সদর এবং দক্ষিণে হবিগঞ্জ, মধুবর্তী সমস্ত অঞ্চল।
সেক্টর ৫ : সিলেট জেলার উত্তরাঞ্চল।
সেক্টর ৬ : রংপুরও দিনাজপুর জেলা।
সেক্টর ৭ : রাজশাহী,পাবনা,বগুড়া ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ।
সেক্টর ৮ : কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা।
সেক্টর ৯ : বরিশাল,পটুয়াখালী এবং খুলনা এবং ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ।
সেক্টর ১০ : কোনো আঞ্চলিক সীমানা ছিল না,নৌবাহিনীর কমান্ডো নিয়ে গঠিত। নৌ অভিযানের প্রয়োজনে যে কোনো সেক্টর এলাকায় গিয়ে অপারেশন শেষে ১০নং সেক্টর ফিরে আসতো।
সেক্টর ১১ : টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার অংশবিশেষ।”
“ তার মানে পুরো দেশটা ১১টা সেক্টর ছিল।”
“ ১৯৭১ সালে ১দই জুলাই মুক্তিবাহিনী নামে একটি বাহিনী গঠন করা হয়।এই বাহিনীর প্রধান সেনাপ্রতি ছিলেন জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী। আচ্ছা বলতো উপ-প্রধান সেনাপতির নাম কি?”
“ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার। তাই না আব্বু। ”
“ একদম সঠিক উত্তর দিয়েছ। মুক্তিবাহিনীর তিনটি বিগ্রেড ফোর্সে ভাগ করা হয়েছিল :
১/ মেজর খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে ‘কে’ ফোর্স।
২/ মেজর কে এম শফিউল্লাহর নেতৃত্বে ‘এস’ ফোর্স।
৩/ মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ‘জেড’ ফোর্স।”
“থামলে কেন? আরও বল।”
“ তুমি আরও জানতে চাও তাহলে নাও‘একাত্তরের দিনগুলি’ বইটা। এখানে অনেক কিছু আছে যা তুমি জান না। তুমি এটা পড়লে অনেক কিছু জানতে পারবে। এত কিছু আমি তোামকে বলতে পারবো না।”
চামিয়া তার বাবার কাছ থেকে বইটা নেয়। চামিয়া পরে বইটা পড়ে অনেক কিছু জানতে পারে।
(সমাপ্তি)