
মাটির মহানায়ক
মাঠে হেলে পড়া এক খোঁজহীন ছায়া,
ঘামে ভেজা গায়ে সূর্য তার মায়া।
ভোরের পাখির আগে যার পথচলা,
জীবন তার যেন এক শ্রান্ত কলা।
ধুলো-মাটির সাথে তার নিত্য যুদ্ধ,
কষ্টের মাঝে গড়ে সে শ্রেষ্ঠ সমৃদ্ধ।
দু’হাতের জোরে সে আনে সোনালি ধান,
তারই পরিশ্রমে হাসে বিশ্ব আর প্রাণ।
সে নেই সভার ভাষণে, নেই মঞ্চের আলোয়,
তবু তারই ঘামে চলে জীবন পথেয়!
অথচ পায় না সে ন্যায্য সম্মান,
অভাব আর দারিদ্রে গড়ে তার জ্ঞান।
দুপুরের রোদে পোড়ে তার বুক,
বৃষ্টিতে ভিজে চলে অনন্ত দুখ।
তবু সে হাসে, ফসল ফলায়,
মানুষের মুখে অন্ন সাজায়।
হাজারো মানুষের জীবনের জ্বালানী,
সে যে দেশের প্রাণ, জাতির প্রাণবাণী।
নিজে খেতে পায় না, দেয় হাজার মুখে,
তারই আশীর্বাদে ভরে উঠে সুখে।
নেই তার বাড়ি- প্রাসাদিক অট্টালিকা,
তবু সে গড়ে সমাজের ভিত্তিকা।
সে যে এক বাস্তব নিরব “মাটির মহানায়ক”,
যার পায়ে লুকিয়ে দেশের চালিকাশক্তি!
সে বাঁচে শুধু দেবার তরে,
নিজের বুকে ধরি আগুন, ফসল করে ভরে।
তোমরা যখন আহার করো সুখে,
স্মরণ রেখো তাকে, দাঁড়িয়ে সে রোদে দুখে।
প্রণাম তার ত্যাগে, শ্রদ্ধা তার ধৈর্যে,
তার হাতেই লুকিয়ে- জীবনের প্রেরণার পর্যায়।
কৃষক তুমি শুধু মাটির নও,
তুমি বিশ্বের বুকে প্রাণের পরিচয়!
শেষ বিকেলে বৃদ্ধ দম্পতি
ধুঁকে ধুঁকে হেঁটে চলে মা,
হাতে তার কাঁপা লাঠি।
বাবা বসে থাকে নিঃশব্দে—
চোখে জল আর মুখের হাসিতে।
দু’জনে চেয়ে থাকে শুধু,
নির্বাক সেই চোখে চোখ রেখে—
ভালোবাসা বলে না কিছু,
বলা থাকে নিঃশব্দ শোকে।
বছর গড়িয়ে গেছে বহু,
অবিরাম ত্যাগ-ভরা দিনে,
তবুও হৃদয়ে জমে আছে,
একটুখানি সোনালি ঋণে।
মায়ের ব্যথায়, বাবার ডাকে—
জেগে ওঠে কাঁপা কান,
তাঁরা জানে, মৃত্যুও কাছে,
তবু জীবনে এখনো বাজে গান।
একটা চা, ভাগ করা রুটি,
ওষুধের ঠিকমতো বেলা,
এটাই প্রেম, এটাই চাওয়া,
বাকি সব যেন মরিচিকার খেলা!
সন্তান ব্যস্ত দূর শহরে,
ফোনে কয় “আছি মা!”
তবুও মা-বাবা ভাবে,আমরা ভালো,
ভয় কিসে তোর ছোট খোকন!
চাহিদা নেই, অভিমানও নেই—
শুধু একটু কথা, একটু ছোঁয়া।
একটি কাঁথা,হাসিমাখা মুখ,
তাতেই জীবন হয় যেন মোহা মায়াঘেরি।
তবুও তারা বসে থাকে—
একাকিত্বের করুণ আলোতে,
শেষ বিকেলে মুখ তুলে চায়,
কে ডাকছে ওদের নামটি ধরে?
মৃত্যু আসে,আসবে জানে—
তবু হাত দুটি রাখছে হাতে,
ভালোবাসার নিরবতাটুকু,
আজও গেয়ে যায় স্বপ্নের মাঝে
বৃদ্ধ দম্পতি- আলো ঘেরা শেষ বিকেলে!
তিনি শিক্ষক, তিনিই মা
তিনি শিক্ষক, তিনিই মা,
নীরব ছায়া, অদৃশ্য দীপ্তি ছড়ায় যা।
নিজেকে নিঃশেষ করে গেলেন নিঃস্বার্থ ভালোবাসায়,
ফুলদের দিলেন নবজীবন, প্রাণে রক্ত ঢালিয়া!
মাইলস্টোনের ভয়াবহ ক্ষণে,
দাঁড়ালেন তিনি মৃত্যু সীমানায় অনবদ্য রণে।
নিজের প্রাণের মুক্তি ছিল হাতে,
তবু ফিরে দেখলেন শিক্ষার্থীদের দিকে মমতাভরে!
“ওরা তো আমার সন্তানসম!” — কণ্ঠে কাঁপা দৃঢ়তা,
এই ছিল তাঁর শেষ মাতৃত্বের নিঃশব্দ প্রার্থনা।
একটা ডাকে, একটুখানি হাসিতে,
ভুলে গেলেন জীবনের অধিকার, সব নিঃশেষ আঁকিতে।
ভস্মের ভেতর জন্ম নিল গর্ব—
শিক্ষক শুধু পড়ান না, তাঁদের হৃদয়ে আছে রক্ত-মধুর গর্ব!
মা-বাবার পরেই যাঁর স্থান,
তাঁর এই ত্যাগে কাঁপে আজ মানচিত্রের প্রাণ।
নিষ্ঠা, মায়া, ভালোবাসা আর কর্তব্যের গল্প,
লেখা থাক তার নামের পাশে,
চিরন্তন স্বর্ণ অক্ষর রূপে ফলপ্রসূ।
তাঁকে স্মরণে রাখবে শত প্রজন্ম,
কারণ তিনি শুধু শিক্ষক নন, তিনি এক মাতৃসত্তার উৎসম।
শিক্ষকের এই মহত্ত্ব, এ দায়িত্বের গান,
হোক আমাদের সবার হৃদয়ে চিরকালের মান।
তিনি শিক্ষক, তিনিই মা —
এই শ্রদ্ধা হোক প্রতিটি প্রাণে জাগ্রত এক নীরব ভাষা।
উৎসর্গ – শিক্ষিকা মাহরিন চৌধুরী, মাইলস্টোন স্কুল এ্যান্ড কলেজ।
নিজ জেলা ঝিনাইদহ
নিজ জেলা ঝিনাইদহ, হৃদয়ের প্রিয় নাম,
ভালোবাসায় গড়া এ মাটি, গৌরবে পরিপূর্ণ ধাম।
সবুজে মোড়া মাঠ-ঘাটে, গন্ধে ধানের চাষ,
মমতার মতন আপন, দেয় প্রাণে শান্তির আশ।
শিক্ষার আলো জ্বলে এখানে, মেধায় দীপ্ত জন,
ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ—শিক্ষার গর্বের মন।
কেসি কলেজ, শহীদ সুবেদার—আলোর পথ দেখায়,
বিদ্যাপীঠের দীপ্ততায়, সভ্যতা প্রাণ পায়।
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান, গৌরব জাতির শক্তি,
তাঁর রক্তে রাঙা এ মাটি, গড়েছে নতুন মুক্তি।
স্বাধীনতার প্রতীক তিনি, সাহসে অমর চিরদিন,
ঝিনাইদহ তার গর্বে বলে—“আমার বীর সুনামিন।”
কবির কণ্ঠে বাজে গাথা, গায়কের সুরে প্রাণ,
আবদুল হাই মাশরাফী,এক ছন্দে দূরদর্শন।
হাসান ফেরদৌসের কণ্ঠে যখন গান ঝরে শ্রবণে,
ঝিনাইদহ গায় ভালোবাসা, সুরে-সুরে মন মথনে।
ঐতিহাসিক স্থান আছে, মহেশপুরের কথা শোনো,
বারবাজারে সভ্যতার ছোঁয়া, প্রাচীন ইতিহাসের মতো।
নলডাঙ্গা জমিদার বাড়ি, বয়ে আনে কালের ধ্বনি,
প্রতিটি ইটে লেখা যেন—“বাংলার অতীত স্মরণীয় ধ্বনি।”
সম্মানে পূর্ণ এ জনপদ, শিক্ষিত মানুষ পাথেয়,
জ্ঞান আর বুদ্ধির আলো জ্বলে, মুক্তবুদ্ধির বাহেয়।
নতুন প্রজন্ম গড়ছে সবে, মানবিকতার শপথে,
ঝিনাইদহ এগিয়ে চলে, আলোকিত পথের রথে।
নিজ জেলা আমার অহংকার, ভালোবাসা মিশে প্রাণে,
চোখ বুঁজলে দেখি যেথা—সবুজ মাঠ, খোলা আকাশ টানে।
এই মাটি, এই মানুষ, আমার রক্তে গাঁথা ঢেউ,
ঝিনাইদহ আমার গর্ব, আমার ভালোবাসা সে!
নারীর অভিনয়
ভালোবাসার ছলে সে একদিন বলেছিল,
“তুমি ছাড়া জীবন যেন শূন্যতায় ঢলেছে।”
চোখে জল, কণ্ঠে কম্প, কথায় কাঁপন ছিল—
আমি ভেবেছিলাম, বুঝি সত্যিই ভালোবেসেছে।
সন্ধ্যা নামে সে বলে, “বাসায় ফিরতে হবে,”
“মা’কে ছেড়ে বেশি দেরি ভালো দেখায় না।”
কখনো অফিস, কখনো ভাইয়ের অসুখ তবে—
আমার অপেক্ষা গলে পড়ে রাতের কাঁদা-পথে।
আমার নামে স্বপ্ন বুনে, চুপিচুপি হাসে,
আলতো ছোঁয়ায় তার আঙুল শিহরণ জাগায়।
অথচ পেছনে কেউ একজন ছায়ার মতো বাসে—
তারই জন্যই বুঝি আজ সে এত উদাসায়।
পরিবারের কথা বলে, দায়ের গল্প শোনায়,
ভবিষ্যতের ভয় দেখিয়ে “সমঝোতা” বোঝায়।
আমি বোকার মতো ভাবি, সময়ই সব ঠিক করবে,
অথচ সে গোপনে ভিন্ন নামে সংসার সাজায়।
ভালো লাগা তার ছিল, আমি শুধু অভিনয়ের পাত্র,
একটা নাটক, একটা পর্দা, একটা থেমে যাওয়া রাত।
সে হাসে, সে ভালোবাসে, তবে তার ছিল চরিত্র দ্বিমুখী—
প্রেমের নামে প্রতারণা, হৃদয়ের অঙ্কে ব্যতিক্রমী।
তবু আমি দোষ দিই না, অভিনয় তো সবাই শেখে,
নারীর নয়, মানুষেরই মুখোশে মুখ লুকোনো থাকে।
ভালোবাসা যদি অভিনয় হয়, তবে সত্য কোথায় লুকায়?
একদিন হয়তো সেই প্রশ্নেই সে একা ঘুমিয়ে পড়ে।