এস এ বিপ্লব ( নারায়ণগঞ্জ)
ইচ্ছাশক্তি আইডি নং ০০২২০২০৮৬৯
ফোন নাঃ ০১৯৫৭২৩৭০১২
সমাজে কথা রটেছে যে যত পেশা আর শিক্ষিত মানুষ আছে তার মধ্যে কবি- সাহিত্যিকরা না কি একটু অন্য রকম হয়ে থাকে। বিশেষ করে কবিদের একটি দোষ সবাই বলে থাকে। সেটা হলো লেখকরা একমাত্র ব্যক্তি যারা সন্তানদের চেয়ে নিজেদের জম্মদিন পালন করতে বেশি পছন্দ করে থাকে।করে থাকে বললে ভুল হবে তারা তাদের জম্মদিন গুলো গর্জিয়াস ভাবে করে থাকে। যেটা সমাজে আর কোন পেশাজীবীদের বেলায় এতো টা দেখা যায় নি করতে। আর এজন্যই অনেকে কবি,লেখকদের পছন্দ করে না। কারন অনেকের মতে জম্মদিন পালন করে ইহুদিরা। আবার আলেম সমাজদের মতে ইসলামে জম্মদিন পালন করা বিদাত,কেউ বলে হারাম অথবা ভালো না।
এখন প্রশ্ন হলো লেখকরা তো শিক্ষিত,কিংবা হাদিস কিছুটা হলেো জানে। তাহলে তারপরও তারা কেন জম্মদিন পালন করে? আসলে এর কোন উত্তর নেই কারো কাছে। আবার হযতো বা কোন লেখকের কাছে জানতে চাইলে যে যার যার মতন বুঝিয়ে দিবে। এক্ষেত্রে কেউ যদি আমার কাছে জানতে চায় তবে আমি আমার মত করে বলতে পারি বা কিছু বিষয় তুলে ধরতে পারি। লেখকদের জম্মদিন করার পিছনে বিশেষ কিছু উদ্দ্যেশ থাকে। তবে তাদের এ উদ্দেশ্য গুলো কিন্তু ভালোর উদ্দেশ্য বলতে হয়।
১/ প্রথমত জম্মদিন পালন করা ভালো না বা হারাম বা বিদাত কিংবা ইহুদিরাই শুধু করবে ইত্যাদি কথা গুলো কিন্তু মন গড়া বা বানানো। কিংবা শুনে শুনে প্রচার করা। এর কোন সত্যি কারের ডকুমেন্ট কোথাও নেই।
২/ জম্মদিন করা ভালো না বা হারাম এই ধরনের কোন কথা আজও আমি কোন কোরআন - হাদিসে পাইনি। বিশেষ করে বলব কোরআনের কোথাও নেই।আমি কোরআন পড়েছি কয়েকবার বাংলা অর্থটাই পড়েছি।সেখানে কোথাও এবিষয়ে বলা হয়নি তেমন কিছু। আল্লাহ অপচয় করতে মানা করেছে। এখন কেউ যদি মনে করে তো করবে না।অর্থাৎ জম্মদিন টা একটা এক্সটা অপচয় হিসেবে ধরা যেতে পারে। তাই বলা যায় যে, পুরোটাই যার যার ব্যক্তিগত বিষয়।
৩/ লেখকরা কেন করে, কারন হিসেবে বলব লেখকরা এইজন্য করে থাকে প্রথমত তারা তাদের জীবন টা আনন্দ উল্লাসে কাটাতে চায়। তাদের মনের ধারনা কখন যেন মরন এসে যায়। কেননা কবিদের ধারনা তাদের আয়ু খুব কম হয়ে থাকে।যা ইতিহাস সাক্ষী। তাই কবিরা চায় সবার সাথে, সবার মাঝে একটু আনন্দের সাথে সময় টা কাটাতে। যেন এই স্মৃতি টা থাকে। তাই কষ্ট করে হলেও এই স্মৃতি ধরে রাখার জন্য নিজ জম্মদিন করে থাকে।
৪/ কবিরা জম্মদিন করে থাকে তার আরেকটি কারন হলো - কবিদের সহজেই কেউ চিনে না বা কবিদের চিনতে কিংবা পরিচিতি সাইড পেতে দীর্ঘ সময় লাগে। তাই জম্মদিন কিংবা বইয়ের মোড়ক উম্মোচনের পালনের মাধ্যমে খুব সহজেই অনেকে চিনতে পারে, একটা জায়গা তৈরী করে নিতে পারে এটাও একটা অন্যতম কারন।
৫/ জম্মদিন পালনের মাধ্যমে অনেকে কবিদের গিফট হিসেবে বই দিয়ে থাকে। আবার অনেকে কবিদের নিয়ে কবিতা লিখে থাকে। তাতে করে কবিদের উৎসাহ আরো বেড়ে যায় লেখার প্রতি।আর পাঠকের গিফট গুলো পেয়ে যেমন খুশী বা তৃপ্তি পাওয়া যায় তেমনি ঐ গিফটগুলো খুব যত্নে রাখে।
৬/ বেশির ভাগ কবিদের জীবন সর্বদাই কষ্টের হয়ে থাকে। তাই তারা চায় হাজার কষ্টের মাঝেও একটু আনন্দে থাকতে, সবার সাথে সুখ- দুঃখ ভাগ করে নিতে। তাই কষ্ট করে হলেও নিজের টাকা খরচ করেও নিজের জম্মদিন পালন করে থাকে।
৭/ এছাড়াও বলতে পারি যে, একজন কবির জম্মদিন পালনের মাধ্যমে সে তার দিন, মাস, বছর পরিবার,পাঠক এবং জাতি কে জানিয়ে যাচ্ছে যেন তাকে মৃত্যুর পরেও স্মরণ করে, মনে রাখে।
৮/ একজন কবির জম্মদিন কিন্তু তার পরিবারের চেয়ে পাঠকরা বেশী উৎসাহী হয়ে থাকে। যেটা আমরা দেখতে পাই নজরুল আর রবিঠাকুর সহ কবি দের বেলায়।
৯/ সর্বোপরি এটাই বলব,যেহেতু সমাজে নানান শ্রেণীর মানুষ আছে, তার মধ্যে এক শ্রেণীর মানুষ আছে যারা জম্মদিন পালন করুক এটা চায়না। আর তারাই নানা ফতোয়া দিয়ে থাকে। অথচ তারা দেখে না বিশ্বের বড় বড় মণিষীদের জম্মদিন পালন হচ্ছে এবং পূর্বেও হয়েছিল।এমন কি আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাঃ) মৃত্যু এবং জম্মদিন সেটাও পালন করছি।কারন ঐ জম্মদিন আর মৃত্যুদিন ছাড়া বড় বড় মণিষীদের আর স্মরণ করা হয় না তেমন।তাই এ বিষয়টি প্রচলিত থাকলে ক্ষতি কি তাতে? একটি দিনের জন্য একটি মানুষ কে স্মরণ করা এটা তো ভালো একটি কাজ। এবং ঘুরে ফিরে একের পর এক নতুন নতুন জাতি বা প্রজম্ম জানতে পারে।
সত্যি বলতে কি? জম্মদিন পালন করা দোষের না। কিন্তু জম্মদিন বা কোন উৎসব কে কেন্দ্র করে যদি কোন অপরাধ জনিত কাজ করা হয় সেটা খারাপ। ।।।
Website: www.ichchashakti.com E-mail: ichchashaktipublication@gmail.com