মো: হাসিবুর রহমান, শিক্ষক, কবি ও লেখক।
রক্ষণশীলতা হলো আভিজাত্যের প্রতীক। রক্ষণশীলতার মাধ্যমেই প্রতিটি প্রান ও নিস্প্রানের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে। পাশাপাশি, এটি যে সংমিশ্রণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, সেটাকেও দূরে রাখে। মানুষের জীবনাদর্শ, মৌলিক বিশ্বাস ও রীতিনীতিও খুব সেনসিটিভ। এগুলোও খুব সহজে সংমিশ্রিত হয়ে যায় যা পরবর্তীতে অনেককেই বিপথে নিয়ে যায়, বড় কোনো বিপদের মধ্যে ফেলে। উদাহরণটা ধর্মীয় আদর্শের দৃষ্টিকোণ থেকে দেয়া যাক।
ধর্ম চিরন্তন; ধর্মীয় দন্দ্ব-সংঘাতও চিরন্তন। তাই, ধর্মীয় দাঙ্গা-হাঙ্গা সব যুগেই ছিল; এ যুগেও আছে। এই যেমন, সারা বিশ্বে একমাত্র শুধু মুসলিমরাই ধর্মীয় ইস্যুতে মার খাচ্ছে, মারা যাচ্ছে। এটা সেরেফ গনহত্যা, আর কিচ্ছু না। কারণ মুসলিমরা কোনো পাল্টা হামলা চালায় বরং প্রতিরোধ করে যেটা বেঁচে থাকার জন্য সবারই দরকার আছে তথা বাঁচার অধিকার সবারই আছে। কিন্তু কি দুর্ভাগ্য! আজ মুসলিমরা প্রতিহত করারও কোনো সুযোগ পাচ্ছে না। তাহলে তাদেরকে জঙ্গি ট্যাগ দেয়ার পাশাপাশি উগ্র-মৌলবাদী বলা হয়। কিন্তু এভাবে একটা দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতিকে আর কতো দাবিয়ে রাখা যায়।
সুতরাং, এখন আর অপরের মন্তব্যের উপর আমাদের জীবনাদার্শ ঠিক করলে চলবে না। ধর্মীয় ইস্যুতে আরো কনজার্ভেটিভ হতে হবে। কারণ, আমরা বুঝে গেছি পৃথিবীতে মুসলমানদের ভালো কেউই চায় না। সবাই কেবল আমাদের বিরুদ্ধেই নিরব এবং খুব ভয়াবহ চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তাই, রক্ষণশীলতাই আমাদের এখন একমাত্র রক্ষাকবচ।
সেক্ষেত্রে, আমাদের প্রয়োজন ছাড়া তথা অফিসিয়াল প্লাটফর্ম ছাড়া অন্য কোনো কাজে, এককথায় ব্যক্তিগত বা ঘনিষ্ঠ পর্যায়ে যত কম পারা যায় বিধর্মীদের সাথে ওঠা বসা করতে হবে। এমনিতে মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে যে সম্পর্ক না রাখলেই নয়, তখন সে সম্পর্ক বজায় রাখাটা ঠিক আছে। তবে সে সম্পর্ক যেন মুসলিমদের অথবা এমনকি বিধর্মীদের ঘর অব্দি না যায়। বহুধর্মের মানুষদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক হবে পাবলিক পর্যায়ের সম্পর্ক, ব্যক্তগত সম্পর্ক নয় যেটা কারোর পরিবার অব্দি টেনে নিয়ে আসে।
Website: www.ichchashakti.com E-mail: ichchashaktipublication@gmail.com