এস এম জাকারিয়া, মীরসরাই, চট্টগ্রাম
বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও মুক্তিযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গণ সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মীরসরাই উপজেলা শাখা।
১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ (মঙ্গলবার) বিকেলে মীরসরাই সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মীরসরাই উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা নুরুল কবিরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সরকারের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও মিরসরাই আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান।
মীরসরাই উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আনোয়ারুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় উক্ত সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন মীরসরাই পৌরসভা জামায়াতের আমীর মাও. শিহাব উদ্দিন, মীরসরাই উপজেলা জামায়াতের বায়তুল-মাল সম্পাদক মাও. মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, ১৫নং ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্র শিবিরের মীরসরাই শহর শাখার সভাপতি শরিফুল ইসলাম, ১২নং খৈয়াছরা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি হাফেজ একরামুল হক, ইসলামী ছাত্রশিবির মিরসরাই উপজেলা শাখার সভাপতি সাকিব হোসেন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা পক্ষ থেকে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হুদা প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সরকারের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও (চট্টগ্রাম - ১) মীরসরাই আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান বলেন, '১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু এখনও পর্যন্ত আমরা স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণ করতে পারিনি। আমরা বারবার হোঁচট খাচ্ছি, আমরা স্বাধীনতার পক্ষ এবং বিপক্ষ নিয়ে ভাগাভাগি করছি। একেকজন একেক সময়ে স্বাধীনতার সোল এজেন্ট দাবি করছে। কিন্তু ঘটনা পর্যালোচনা দেখা যায়, তাদের অনেক তৎপরতা স্বাধীনতা এবং দেশের বিরুদ্ধে। যদি আপনার তৎপরতায় স্বাধীনতার পক্ষে প্রমাণিত না হয়, তাহলে আপনি স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হতে পারেন না। দেশ স্বাধীন হয়েছে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করার জন্য। স্বাধীনতার পরে যারা যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত ছিল না, যারা লড়াইয়ের সাথে জড়িত ছিল না, তাদের নেতারা বলেছিল এই যুদ্ধের সঙ্গে আমরা সম্পৃক্ত না, এটা ছাত্রদের আন্দোলন। তারা কিন্তু এখন আস্তে আস্তে সবকিছু দখল করা শুরু করে দিয়েছে। টেম্প্যু স্ট্যান্ড দখল করেছে। পাহাড়ে বসবাসরত আদিবাসীরা বিভিন্ন ফলমূল নিয়ে সমতলে নিয়ে আসে। তারা মানুষের কাছে বিক্রি করার জন্য ছোট ছোট খাঁচায় রেখে বিক্রি করে। প্রতিটির খাঁচার জন্য নাকি ২০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয় স্বাধীনতার এই একক ধ্বজাধারীদের। গত ৫ আগস্টের পর যারা দখলদারিত্ব করেছে, জোর করে চাঁদা নিয়েছে, বালু মহাল দখল করেছে, মৎস্য প্রকল্প দখল করেছেন, বাজারের ইজারা পাওয়ার পরও জোর করে ৪০-৩০% পার্সেন্ট নিয়েছেন, তারাই হচ্ছে স্বাধীনতা বিরোধী। ধর্ম-বর্ন নির্বিশেষে আমাদের সকলে মিলে এদের এসকল অপকর্ম রুখে দেওয়ার এখনই সময়। আসুন আমরা সকলে মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমাদের দেশকে গড়ি।
পরিশেষে উপস্থিত ১১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে এবং ৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের হাতে সর্বমোট ১৬ জনকে প্রধান অতিথি ও অতিথিবৃন্দ ক্রেস্ট এবং শীতের সাল পরিয়ে দিয়ে সম্মাননা দেওয়া হয়। অতঃপর সভার সভাপতি, মীরসরাই উপজেলা শাখা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাও. নূরুল কবীর এর সমাপনী বক্তব্য ও দোয়া পরিচালনার মাধ্যমে সমাপ্ত করা হয়।
Website: www.ichchashakti.com E-mail: ichchashaktipublication@gmail.com